বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস থেকে গুলি! শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রণক্ষেত্র ইসলামপুরের স্কুল, গুলিতে নিহত ছাত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ছাত্রছাত্রীদের পথ অবরোধকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইসলামপুরের দাড়িভিট উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর। জোর করে অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট,পাথর ছোড়া হয়। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশও। কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে এক ছাত্রের।

সংঘর্ষে জখম এক পুলিশ কর্মী

স্কুল চত্বরে বৃহস্পতিবার আন্দোলনে সামিল হয়েছিল প্রায় হাজার দুয়েক পড়ুয়া। রাস্তা অবরোধ করে চলছিল বিক্ষোভ। সেই অবরোধ তুলতে এলেই পুলিশের সঙ্গে ঝামেলা বেধে যায় পড়ুয়াদের। প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। তাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট ছুড়তে শুরু করে পড়ুয়ারা। গ্রামবাসীরাও যোগ দেয় ছাত্রদের সঙ্গে। ফলে, রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্কুল চত্বর।

রক্তাক্ত এক মহিলা পুলিশ কর্মীও

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অবরোধ তুলতে যথেচ্ছ ভাবে লাঠিচার্জ, রবারের গুলি ও টিয়ারগ্যাসের শেল ফাটিয়েছে পুলিশ। ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে রাজেশ সরকার  নামে স্কুলের প্রাক্তন এক পড়ুয়া। বর্তমানে ইসলামপুর আইটিআই কলেজে পাঠরত। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ওই তরুণের। ঘটনায় আহত আরও দুই ছাত্র, এক মহিলা পুলিশ-সহ তিন পুলিশ কর্মী, ও চার জন গ্রামবাসী।

গুলিতে নিহত ছাত্র রাজেশ সরকার

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে। পড়ুয়াদের দাবি, গত মঙ্গলবার উর্দু ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা হয় স্কুলে। কিন্তু, স্কুলে যেহেতু উর্দু ভাষার কোনও বিষয় নেই তাই শিক্ষক নিয়োগে আপত্তি জানায় পড়ুয়ারা। তাদের দাবি ছিল, স্কুলে অন্যান্য ভাষায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেক কম। তাই সে সব বিষয়ে আগে শিক্ষক নিয়োগ করা হোক।

অভিযোগ, সে কথায় কান দেননি স্কুল কর্তৃপক্ষ। গতকাল, বুধবার তাই স্কুল চত্বরেই আন্দোলন শুরু করে পড়ুয়ারা।

আন্দোলনকারী এক পড়ুয়ার কথায়, ‘‘আমরা আন্দোলন শুরু করি। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসে আশ্বাস দেয় আমাদের দাবি মানা হবে। তাই আমরা আন্দোলন তুলে নি। কিন্তু, আজ দেখলাম ফের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তাই পথ অবরোধ করে ফের আন্দোলনের পথে নেমেছি আমরা।’’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। পুলিশ যদিও গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। তাঁদের রবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছাড়া তাঁরা কিছু ব্যবহার করেননি। এ দিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও মুখে কুলুপ এঁটেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের তরফ থেকেও এ বিষয়ে কোনও সদুত্তর মেলেনি।

—নিজস্ব চিত্র।

Comments are closed.