রবিবার, অক্টোবর ২০

কাটমানি

  • 9
  •  
  •  
    9
    Shares

নেত্রী বললেন বটে, কিন্তু কিঞ্চিৎ বেশি বিলম্ব হয়ে গেল না কি?

আমরা সচরাচর বিশ্বাস করি প্রবচন ঠিক কথাই বলে। সঠিক দিগনির্দেশ করে। সে দিক থেকে দেখলে ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’ কথাটিরও নিশ্চয়ই সারবত্তা রয়েছে। তবু সেই ‘লেট’ করে ফেলারও তো একটা লক্ষণরেখা থাকা উচিত। তা না হলে, প্রার্থিত ফল প্রত্যাশা করার জায়গা আদৌ থাকে কি?

এই সেদিন নেত্রী গর্জে উঠলেন, যে যত কাটমানি নিয়েছে, সব অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের তৃণমূল স্তরের নেতাদের উদ্দেশেই মূলত তাঁর এই হুঁশিয়ারি। যারা বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা, আদিবাসী ভাতা, অমুক ভাতা, তমুক ভাতা– যাবতীয় সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গরিব, তস্য গরিবকে দু’হাজার চার হাজার টাকা পাইয়ে দিয়ে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর টেন পার্সেন্ট, এমনকী টোয়েন্টি পার্সেন্ট কমিশন নিয়েছে হাত মুচড়ে।

রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে আট বছর হল। সেই পরিবর্তনে জোরদার সিলমোহর পড়েছে, তাও তিন বছর হয়ে গেল। পাল্লা দিয়ে যে বেড়েছে এই নেতাদের জুলুমবাজি, সে খবর কি এতদিন চাপা ছিল? উপরতলার নেতাদের মাধ্যমে তা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছয়নি? এ কথা কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য?

দিদি এতকাল ধারাবাহিক ভাবে কন্যাশ্রী, সবুজশ্রী, অমুকশ্রী, তমুকশ্রী’র কথা বলেছেন। ভোটের আগে অজস্র জনসভায় সে কথা আবার মনে করিয়েছেন। কখনও বলেননি, এইসব প্রকল্পে টাকা পেতে কী ভাবে গুণাগার দিতে হয় সাধারণ গরিবগুর্বো মানুষকে। মাঝে মাঝে কর্মীসভায় একটুআধটু বলেছেন, ‘বেচাল দেখলে বের করে দেব’, ‘দুর্নীতি করলে ঘাড় ধাক্কা দেব’ ইত্যাদি। ব্যস, এই পর্যন্তই।

মাঝে মধ্যে দিদির সেই ভর্ৎসনা, যাকে বলে গ্রাউন্ড রিয়েলিটি তার কোনও পরিবর্তন করেনি। আর করেনি বলেই লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পরে, অমিত শাহ’র ভবিষৎবাণী প্রায় মিলে যাওয়ার পরে তাঁকে কঠোরতর কথা বলতে হচ্ছে। তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন, তৃণমূল স্তরে কী ভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে তাঁর দল। অনেকের মতেই তা যেন ২০০৮–উত্তর বাম জমানার প্রতিরূপ, যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছিল লোকাল কমিটি ও তার জাতভাইদের অত্যাচার।

দিদি বুঝছেন, কিন্তু বড় বিলম্বে।

Comments are closed.