এনআরএসে কুকুরছানা হত্যাকাণ্ডের এক বছর! কোর্টে চার্জ গঠন অভিযুক্ত দুই নার্সিং পড়ুয়ার বিরুদ্ধে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের জানুয়ারি মাসে এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে উদ্ধার হয়েছিল বস্তাবন্দি ১৬টি কুকুরছানার দেহ। দুই নার্সিং পড়ুয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল মামলা। সেই মামলার চার্জশিটও জমা পড়ে মাস তিনেক আগে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ও ২০১ ধারায় পশু খুন ও তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে মৌটুসি এবং সোমার বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে ১১এল ধারায় প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েল্টি টু আনিম্যাল ধারা দেওয়া হয়েছে এই দু’জনকে। আজ, সোমবার শিয়ালদহ কোর্টে চার্জ গঠন হল সেই মামলার। বিচারক জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানি ৭ ফেব্রুয়ারি।

    গত বছর ১৬টি কুকুরছানাকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্যে। গ্রেফতার হয় দুই অভিযুক্ত নার্সিং পড়ুয়া মৌটুসি মণ্ডল ও সোমা বর্মন। এনআরএস কর্তৃপক্ষ তাদের দু’জনকে কয়েক দফায় তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করেছিল। পরে ফের ক্লাসে ফেরেন ওই দু’জন। সে সময়ে কয়েক দিন হাসপাতাল চত্বর থেকে কুকুর ধরপাকড় ও নির্বীজকরণের কাজও চলে। তার পরে ফের সব চুপচাপ। হাসপাতালের তৈরি করা নির্বীজকরণের ঘরও তালাবন্ধ পড়ে আছে। কুকুর-আতঙ্ক এখনও বহাল এনআরএস চত্বর জুড়ে।

    গত বছরের জানুয়ারি মাসে কুকুরছানা খুনের ঘটনার প্রায় ন’মাস পর চার্জশিট দিয়েছিল এন্টালি থানা। শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়া ২০৪ পাতার ওই চার্জশিটে নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল এবং সোমা বর্মনের নাম ছিল। তারই চার্জ গঠন হল আজ আদালতে।

    গত বছরের ১৩ জানুয়ারি এনআরএস হাসপাতাল চত্বরে বড় বড় কয়েকটা কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন এক হাসপাতাল কর্মীর স্ত্রী পুতুল রায়। প্যাকেটগুলির পাশেই বসে ছিল একটি মা-কুকুর। পুতুলদেবীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি উঁকিঝুঁকি দেন প্যাকেটগুলিতে। একটি খোলা মুখের ভিতরে কুকুরছানা দেখতে পান তিনি। কৌতূহলী হয়ে বাকি প্যাকেটের মুখগুলি খুলতেই দেখতে পান কয়েক সপ্তাহ বয়সের ১৬টি কুকুরছানা মৃত অবস্থায় বন্দি।

    এই ঘটনার পরেই মৌটুসি এবং সোমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সময় প্রকাশ্যে আসে একটি নৃশংস ভিডিও। তাতে দেখা যায় কুকুরছানাগুলির মাকেই প্রথমে নিশানা বানিয়েছিল নার্সিংয়ের এই দুই ছাত্রী। তারপর একে একে নির্মম ভাবে পিটিয়ে মারে ১৬টি ছানাকে। এমন নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল শহরের সাধারণ মানুষ থেকে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন।

    শুধু পশুপ্রেমীরা নয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এনআরএস চত্বর। দাবি ওঠে, বাতিল করতে হবে ওই পড়ুয়াদের অনুমোদন। অশান্তির আঁচ পৌঁছে যায় দিল্লিতে মানেকা গান্ধীর দফতরেও।

    গত ১৫ জানুয়ারি নার্সিংয়ের দুই পড়ুয়া মৌটুসি মণ্ডল ও সোমা বর্মনকে গ্রেফতার করে এন্টালি থানার পুলিশ। দফায় দফায় চলে জেরা। পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকারও করে নেয় মৌটুসি এবং সোমা। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে রাজ্য নার্সিং কাউন্সিল নতুন করে তদন্ত শুরু করে ওই দুই পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। নতুন তদন্ত কমিটি তৈরি হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রথম বর্ষের নার্সিং ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল ও দ্বিতীয় বর্ষের সোমা বর্মনকে। একই সঙ্গে দু’জনকেই আলাদা ভাবে লিখিত বয়ান জমা দেওয়ার নির্দেশ ও দেওয়া হয়।

    কিন্তু আদালতে তোলা হলে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান দুই ছাত্রীই। কয়েক মাস সাসপেন্ড থাকার পরে ক্লাসেও ফেরেন।এর পরেই শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। এন্টালি থানার পুলিশ অক্টোবর মাসে জমা করে চার্জশিট। চার্জ গঠনও হয়ে গেল আজ আদালতে। পরবর্তী শুনানি ৭ ফেব্রুয়ারি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More