মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

সেনা ও পুলিশের যৌথ অভিযানে কাশ্মীরে খতম দুই জঙ্গি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাম জেলায় ইয়ারিপোরা অঞ্চলে লুকিয়ে আছে তিন জঙ্গি। সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিতে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। নিহত হয় দুই জঙ্গি।তারপর কুলগামের কয়েকটি অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে।

স্থানীয় মানুষ জানিয়েছে, নিহত দুই জঙ্গি হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য ছিল। তাদের একজনের নাম জিনাত উল ইসলাম। তাকে শোপিয়ান জেলায় নানা হিংসাত্মক কাজের অভিযোগে খোঁজা হচ্ছিল। সে ২০১৫ সালে জঙ্গিদের দলে যোগ দেয়। গত এক বছরে সে বহুবার পুলিশ ও মিলিটারিকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে। সে ছিল এ প্লাস প্লাস প্লাস ক্যাটেগরির জঙ্গি।

জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এদিনের সংঘর্ষ নিয়ে টুইট করেছেন। তিনি বলেন, কুলগামের যে অঞ্চলে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে, সেখান থেকে সংঘর্ষের খবর পাচ্ছি। আশা করি নিরীহ মানুষ এতে মারা পড়বে না। তাহলে হিংসা বেড়েই চলবে। এই জন্যই আমি চেয়েছিলাম, ভারত সরকার সংঘর্ষ বিরতি চালিয়ে যাক।

সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই চলার সময় স্থানীয় মানুষ তাদের সাহায্য করছিল। তা নিয়েই স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যৌথবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এর আগেই জানা গিয়েছিল, গত ২০১৮ সালে কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তারক্ষীরা। নিহত হয়েছে মোট ২৩০ জন জঙ্গি। অন্যদিকে জনতার ছোঁড়া পাথরের ঘায়ে নিরাপত্তারক্ষীদের আহত হওয়ার ঘটনাও কমেছে। ২৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫১ জন জঙ্গি। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মারা গিয়েছে ৮৫ জন।

২৫ জুন থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষী সহ আটজন নিহত হয়েছিল জঙ্গিদের হাতে। আহত হয়েছিল ২১৬ জন।

গত ১৯ জুন জম্মু-কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন জারি হয়। তার পর থেকে রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে।

২০১৬ সালে কাশ্মীরে বুরহান ওয়ানি নামে এক জঙ্গি নিহত হওয়ার পরে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে ওঠে। রাজ্যের বহু জায়গায় জনতা নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। পালটা নিরাপত্তা রক্ষীরা ব্যবহার করে পিলেট গান। অযথা প্রাণহানি এড়ানোর জন্যই ওই বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু পিলেট গান ব্যবহার নিয়ে সমালোচনাও হয় নানা মহলে।

Shares

Comments are closed.