বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

দু’লক্ষ বছরেরও বেশি পুরনো মানুষের মাথার খুলির খোঁজ মিলল গ্রিসে!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’লক্ষ বছরেরও বেশি পুরনো মানুষের মাথার খুলির সন্ধান পেলেন গবেষকেরা! এর আগে আফ্রিকায় এত পুরনো মানুষের খোঁজ মিললেও, আফ্রিকার বাইরে এই প্রথম ঘটল এমনটা। গ্রিসে উদ্ধার হওয়া একটি মাথার খুলিকে ২ লক্ষ ১০ হাজার বছরের পুরনো বলে দাবি করেছেন ঐতিহাসিক ও গবেষকেরা।

এই আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, প্রথম দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষ অন্যত্র অভিবাসন করতেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গ্রিস থেকে উদ্ধার হলেও, ওই মাথার খুলির সঙ্গে মিল রয়েছে আফ্রিকার আধুনিক যুগের মানুষের। তবে ওই সব মানুষের কোনও কিছুর অস্তিত্ব বর্তমানের মানুষের ডিএনএ-তে নেই।

বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল নেচারে গবেষকদের এই আবিষ্কারের খবর প্রকাশ পাওয়ার পরে জানাজানি হয়েছে বিষয়টি।

গ্রিস নিয়ে গবেষণা বহু দিন ধরেই চলছে। সাতের দশকে গ্রিসের আপিদিমা গুহায় দু’টো মানুষের মাথার খুলির জীবাশ্ম খুঁজে পান গবেষকেরা। একটি জীবাশ্ম অত্যন্ত বিকৃত ছিল, অন্যটি ছিল অসম্পূর্ণ। কম্পিউটার টোমোগ্রাফি স্ক্যানিং ও ইউরেনিয়াম-সিরিজ ডেটিংয়ের মাধ্যমে গবেষকরা এ জীবাশ্ম দু’টোর রহস্য উদঘাটন করেন।

জানা যায়, তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ খুলির জীবাশ্মটি এক জন নিয়ান্ডারথাল মানবের। কিন্তু অন্যটি আধুনিক মানুষের মাথার খুলি বলে জানিয়ে দেয় পরীক্ষা। আধুনিক মানুষের জীবাশ্ম থেকে মেলা নমুনার মতোই ওই জীবাশ্মর পেছন দিকে গোলাকৃতির পরিষ্কার বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। তাই এটিকে আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্সের সব চেয়ে পুরনো নমুনা বলে মনে করেছিলেন তাঁরা। এই অবধি সেটিই ছিল আফ্রিকার বাইরে উদ্ধার হওয়া সব চেয়ে পুরনো মানুষের চিহ্ন।
নতুন আবিষ্কার আরও খানিক পুরনোকে তুলে ধরল। জানা যায়, ইউরোপ ও এশিয়ায় আধুনিক মানুষের যুগে এই পূর্বপুরুষরা তাদের সঙ্গে লড়াইরত নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভান প্রজাতিকে ইউরোপ ও এশিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করেছিল। তবে মানুষের উৎপত্তি আফ্রিকা মহাদেশে বলে ধারণা করা হলেও, ৬০ হাজার বছর আগে বর্তমান মানুষের পূর্বপুরুষরা আফ্রিকা মহাদেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে অনেক।
সেই প্রমাণকেই আরও জোরদার করল নতুন এই আবিষ্কার।

Comments are closed.