মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

সকালেই বিস্ফোরণ প্যারিসে, উড়ে গেল বাড়ির দরজা-জানলা, নিহত ২, আহত বহু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ন’টা নাগাদ প্যারিস শহরের দমকলে ফোন আসে, এক বেকারিতে গ্যাস লিক হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যান দমকলকর্মীরা। তাঁরা লিক হওয়া সিলিন্ডারটাকে বাইরে বার করে আনতে যাবেন, এমন সময় বিকট শব্দে ঘটল বিস্ফোরণ। বেকারির দরজা-জানলা ভেঙে ছিটকে পড়ল দূরে। মারা গেলেন দুই দমকল কর্মী। আহত হলেন অন্তত ৪৭ জন। তাঁদের একজনের অবস্থা গুরুতর।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, আশপাশের বিরাট এলাকা কেঁপে ওঠে। ওই বেকারির কাছে দাঁড় করানো গাড়িগুলি সুদ্ধু ছিটকে পড়ে দূরে। আশপাশের বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়।

প্রথমে সবার ধারণা হয়, ভূমিকম্প হয়েছে। যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেখানে অনেকগুলি হোটেল আছে। সেখান থেকে ট্যুরিস্টরা ভয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। সপ্তাহশেষের কেনাকাটা সারতে ওই এলাকার বাজারে ভিড় করেছিলেন স্থানীয় মানুষ। তাঁরাও দোকান থেকে বেরিয়ে ভিড় করেন রাস্তায়।

বিস্ফোরণের পরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে বেকারিতে। ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান ২০০ দমকল কর্মী। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ক্রিস্টোফি কাস্টনারও যান সেখানে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণের সময় দমকল কর্মীরা ছিলেন বাড়ির ভিতরে। স্থানীয় মানুষ ছিলেন বাইরে। তাই দমকলকর্মীরাই হতাহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণস্থলে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১০০ পুলিশ। তারা আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়। আশপাশের বাড়ি থেকে মানুষকে উদ্ধার করার জন্য আনা হয় দু’টি হেলিকপ্টার।

এক কিশোরী জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় আমি ঘুমোচ্ছিলাম। আচমকা জানলা দরজা ঝনঝন করে ওঠে। আমি ঘুম থেকে উঠে পড়ি। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টে যে বাচ্চারা ছিল, ভয়ে কাঁদতে থাকে।

যে বেকারিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেখানে গ্যাস লিক করছিল ঠিকই কিন্তু তা থেকেই এতবড় বিস্ফোরণ হয়েছে কিনা তাতে সন্দেহ আছে পুলিশের। প্যারিসে গত কয়েকমাস ধরে চলছে ‘ইয়োলো ভেস্ট’ আন্দোলন। সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে যোগ দিতে আসছেন ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। ইয়োলো ভেস্টের মিছিল থেকে প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা। শনিবারের বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের যোগ আছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।

গোয়েন্দারা অনেকে মনে করেন, বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যেই গ্যাস লিক করানো হয়েছিল। সেজন্য বিস্ফোরণের পরে অত বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর আগেও প্যারিসে একাধিকবার হামলা করেছে জঙ্গিরা। গত ২০১৫ সালেই হামলা হয়েছে একাধিকবার। তাতে জড়িত ছিল আত্মঘাতী জঙ্গিরাও। এবারও তারাই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Shares

Comments are closed.