খণ্ডঘোষে প্রতারণায় অভিযুক্ত ২ বিজেপি নেতা! দলেরই কর্মীকে চাকরির টোপ দিয়ে ২ লাখ টাকা আদায় ও খুনের হুমকি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল দুই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন অভিযোগকারীরা। আর তা দায়ের করেছেন বিজেপি দলেরই এক কর্মী। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের এই ঘটনায় ফাঁস হল বিজেপি নেতাদের দুর্নীতি।

    অভিযোগ, শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে প্রতি মুহূর্তে গলা ফাটাচ্ছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। কিন্তু খণ্ডঘোষের ঘটনায় এবার উলট পুরাণ। দলেরই কর্মী অভিযোগ তুললেন দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। হেমন্ত রুইদাস নামের ওই কর্মীর দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টে তাঁকেই খুনের হুমিকে দিয়েছেন খণ্ডঘোষের দুই বিজেপি নেতা মহাদেব তা ও পিন্টু সাম। মহাদেব তা ও পিন্টু সাম খণ্ডঘোষের ৪ নম্বর জেলাপরিষদ মণ্ডলের সদস্য ও সম্পাদক।

    ঘটনার কথা সবিস্তারে লিখে এফআইআর দায়ের করেছেন হেমন্ত। ঘটনাটি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। খণ্ডঘোষের সরঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ওই বিজেপিকর্মী লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, পার্টি করার সুবাদে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের সময়ে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় মহাদেব তা ও পিন্টু সামের। খণ্ডঘোষের সরঙ্গা গ্রামে বাড়ি বিজেপি নেতা মহাদেবের। অন্য নেতা পিন্টু সামের বাড়ি খণ্ডঘোষের আমরাল গ্রামে।

    হেমন্তর অভিযোগ, এই দুই বিজেপি নেতা তাঁর স্ত্রী মাম্পিকে আইসিডিএস-এ এবং তাঁকে বন্ধন ব্যাঙ্কে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ জন্য ৪ লক্ষ টাকা লাগবে বলে ওই দুই বিজেপি নেতা তাঁকে জানান। হেমন্ত বলেন, দলেই দুই পদাধিকারী নেতার কথা তিনি বিশ্বাস করে ফেলেন। হেমন্তর দাবি, মহাদেব এর পরে একদিন তাঁকে পিন্টুর কাছে নিয়ে যান। চাকরির পাকা কথা হয় সেখানে। হেমন্ত ওই নেতাদের হাতে ২ লক্ষ টাকাও দিয়ে দেন অগ্রিম। কথা হয়, চাকরি হয়ে যাওয়ার পরে বাকি ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দেবেন তিনি।

    হেমন্ত রুইদাস পুলিশকে জানিয়েছে, দুই বিজেপি নেতা তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিলেও এখনও চাকরির কোনও ব্যবস্থা করে দেননি। তিনি টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই দুই বিজেপি নেতা এখন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়াও ওই দুই প্রতারক বিজেপি নেতা কখনও পুলিশের পরিচয় দিয়ে আবার কখনও উকিল পরিচয় দিয়ে ফোন করে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর। হেমন্ত রুইদাস আরও জানান, তাঁর স্ত্রী মাম্পি রুইদাস হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন, যাতে বিজেপি নেতারা জড়িত বলেই নিশ্চিত তিনি।

    বিজেপি কর্মীর দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি-সহ একাধিক ধারার মামলা রুজু করে দুই বিজেপি নেতার খোঁজ শুরু করেছে। তাঁদের অবশ্য ফোন সুইচড অফ। খোঁজও মেলেনি কোথাও।

    অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের এমন প্রতারণা কাণ্ড সামনে আসার পরেই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন খণ্ডঘোষের ব্লক তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা। খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, “উপর থেকে নিচুতলা পর্যন্ত সব বিজেপি নেতারাই চোর ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সারা দেশজুড়ে বিজেপি লুঠ চালাচ্ছে। নিজের দলের সাধারণ কর্মীদের কাছ থেকে টাকা লুঠ করতেও বাধছে না, এর থেকে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে।”

    যদিও খণ্ডঘোষের বিজেপি পর্যবেক্ষক বিজন মণ্ডল দাবি করেছেন , “সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দুই বিজেপি নেতাকে ফাঁসাতে তৃণমূল চক্রান্ত করে এই সব মিথ্যা মামলা রুজু করিয়েছে। বিজন মণ্ডল জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক ভাবেই তৃণমূলের এইসব চক্রান্তের মোকাবিলা করবে বিজেপি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More