দাউদাউ জ্বলছে বহুতল, ওপরে বন্দি ১৪ জন! ১৯ বছরের ছেলের অবাক দক্ষতায় উদ্ধার সকলে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাউদাউ করে জ্বলছে গোটা বিল্ডিং। ভিতরে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েক জন। তাপে, ধাঁয়ায়, আতঙ্কে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সম্মুখীন চিনের ফুশুন প্রদেশের লিয়াওনিং শহরের মানুষগুলি। এই অবস্থায় দেবদূতের মতো ১৪ জনকে রক্ষা করলেন ১৯ বছরের তরুণ! প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই তরুণ ঠিক সময়মতো হাজির না হলে, জীবন্ত ঝলসে মারা যেতেন ১৪ জনই।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, যে বিল্ডিংটিতে আগুন লেগেছিল, তার কাছেই একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ে কাজ করছিলেন ল্যান জুনজে নামের ১৯ বছরের ওই তরুণ। ওই নির্মাণে ক্রেনে করে মালপত্র ওঠানো-নামানোর কাজ করছিলেন তিনি। এমন সময় আগুন দেখতে পেয়ে, তড়িঘড়ি ক্রেন নিয়ে চলে আসেন জ্বলন্ত বিল্ডিংয়ের গায়ে। ক্রেনের হাতটি সোজা করে তুলে দেন, টপ ফ্লোর পর্যন্ত। সেখানেই আগুনে আটকা পড়ে ছিলেন ১৪ জন। আর্তনাদ ভেসে আসছিল তাঁদের।

    ক্রেন হাঁকিয়ে ঘটনাস্থলে এসে, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে, ওই ক্রেনের হাতটি দিয়ে জানলা ভেঙে টপ ফ্লোরের ঘরের ভিতর পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেন জুনজে। মালপত্র ওঠা-নামার কনটেনার বাঁধা ছিল সেখানে। তাতেই বসে পড়েন আটকে যাওয়া বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেনে করে তাঁদের নামিয়ে আনেন জুনজে।

    আধ ঘণ্টা ধরে এরকম তিন-চার বারের চেষ্টায় সকলে বেরিয়ে আসতে পারেন। জুনজের সাহস এবং দক্ষতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে। অতটুকু ছেলে যে ভয় না পেয়ে অত চটজলদি এমন কাজ করতে পেরেছে, তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

    আর উদ্ধার হওয়া ১৪ জন তো বলছেন, পুনর্জন্ম হল তাঁদের। লিফট, সিঁড়ি– সব দাউদাউ করে জ্বলছিল। বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে আসার কোনও উপায় ছিল না তাঁদের। হয়তো জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিতে হতো শেষমেশ। এমন সময়ে আচমকা জানলা ভেঙে ক্রেন ঢুকতে দেখে, চমকে যান তাঁরা। ভেবেছিলেন হয়তো দমকলবাহিনীই চালাচ্ছে উদ্ধারকাজ। পরে দেখেন, এটি ১৯ বছরের জুনজের কীর্তি।

    দেখুন জুনেজের সেই উদ্ধার কাজের ভিডিও।

    জুনজের এই অসমান্য কাজটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। নেটিজেনদের অভিননন্দনে ভেসে যান তিনি। জুনজে বলেন, “ওই মুহূর্তে একটাই কথা মনে হয়েছিল, মানুষগুলোকে বাঁচাতে হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More