শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

ভোট শেষ হলেও অশান্তি চলছেই, চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ ছাত্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ফের শিরোনামে চোপড়া। সাত সকালে বিজেপি তৃণমুল সংঘর্ষের মাঝে পরে গুলিবিদ্ধ সপ্তম শ্রেণি ছাত্র। নাম মহম্মদ আব্দুল। আজ বাড়িতে তার দিদির বিয়ে। দু দলের সংঘর্ষের মাঝে পরে বিয়ের আনন্দ মাটি হল ১৩ বছরের পড়ুয়ার।

অভিযোগ, সকাল থেকেই চোপড়ার মকদুমি এলাকায় শুরু হয় তৃণমুল বিজেপি সংঘর্ষ। চলে এলোপাথাড়ি গুলি। সেই গোলাগুলির মাঝে পড়ে সপ্তম শ্রেনির ছাত্র মহম্মদ আব্দুলের বাঁ পায়ে গুলি লাগে। আহত আব্দুলকে দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, আব্দুলের বাঁ পা এফোঁড় ওফোঁড় করে গুলি বেরিয়ে গেছে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তথা তৃণমুল নেতৃত্বর দাবি, সকাল বেলাতেই হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তৃণমুলের স্থানীয় কর্মীরা বাধা দিতে গেলেই গুলি চালায় তারা। সেই গোলাগুলির মাঝে পড়ে যায় আব্দুল৷ বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

 

আব্দুলের মামা আসফাক জানান, গতকাল রাত পর্যন্ত অশান্তি চলেছে গ্রামে। আজ সকাল হতে না হতেই ফের সংঘর্ষ বাধে দু পক্ষের। দোকানে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে সেই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায় আব্দুল। তাঁর কথায়, “ওর গায়ে গুলি লেগেছে জানতে পেরে আমরা ছুটে যাই। দেখি রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে ও। প্রথমে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম। পরে অবস্থা খারাপ বুঝে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

গুলিতে ছাত্র জখম হওয়ার পরে শুরু হয় দু দলের টানাপড়েন। তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মুস্তাক আলম বলেন, “আজ সকাল হতেই বিজেপির কর্মী সমর্থকরা পরিকল্পনামাফিক আমাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা শুরু করে। লুঠপাট চালায়। ওদের ছোড়া গুলিতেই জখম হয়েছে আমাদের গ্রামের স্কুলছাত্র।”

বিজেপির ব্লক স্তরের নেতা শাহিন আখতারের পাল্টা অভিযোগ, গুলি চালিয়েছে তৃণমূল। তিনি বলেন, যে কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে সে আমারই আত্মীয়। গত কয়েক দিন ধরেই এলাকার মানুষকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছে তৃণমূল। যাতে তাঁরা ভোট দিতে না যান। ভোটের পরেও সন্ত্রাস জারি রেখেছে তারা।

গতকাল সকালে দফায় দফায় অশান্তির পর  সন্ধেতেও তেতে ওঠে চোপড়া। যথেচ্ছ বোমাবাজি হয়। চলে গুলিও। উত্তেজনা ছড়ায় মাঝিয়ালি ও ঘিরনিগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতে। অশান্ত হয়ে ওঠে নারায়ণপুরও। আজ সকাল থেকে ফের  এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। অবস্থা  নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে টহল দিচ্ছে। রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

জখম আব্দুলের মা  হালিমা খাতুন বলেন, “আমরা খুবই গরীব মানুষ। তৃণমূল-বিজেপির গণ্ডগোলের মধ্যে পড়ে গুলি খেল আমার ছেলেটা। যারা গুলি ছুড়েছে আমি তাঁদের শাস্তি চাই।” আব্দুলের দিদি আলেমার বিয়ে আজ। গতকাল ভোটের দিন চলা লাগাতার সন্ত্রাসের মধ্যেই মেহেন্দি হয়েছে তার। আজ সকালে বাড়িতে তখন উৎসবের আবহ। তারই মধ্যে হালিমা জানতে পারেন গুলি লেগেছে তাঁর ছেলের পায়ে। তখন ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটবেন নাকি মেয়ের বিয়ের আয়োজন করবেন, তোলপাড় শুরু হয়ে যায় গোটা পরিবারে।

জানা গেছে, আজকের সংঘর্ষ চলাকালীন গোলাম রব্বানি নামে আরও একজনের কানে মাথায় আঘাত লাগে। গতকালই মাত্র বিয়ে হয়েছে তাঁর। ভোট পরবর্তী হিংসা রেয়াত করল না বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানকেও।

Comments are closed.