মাথায় অপারেশনের আগে ইউনিকর্নের পিঠে চড়ব, একরত্তির আবদার মেটালো স্কুলের বন্ধুর মায়েরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের ছোট্ট ওয়াট হ্যাস। ইউনিকর্নের পিঠে চড়ে ঘুরতে যাওয়ার বড় শখ এই একরত্তির। এক শিংওয়ালা ঘোড়া ইউনিকর্ন যেন তার প্রাণের বন্ধু। এমনকি ওয়াট বিছানায় ঘুমোতেও যায় ইউনিকর্নের পুতুল নিয়ে।

    সম্প্রতি ওয়াটের জীবনে নেমে আসে এক চরম বিপর্যয়। চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছে সে। দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সেই মতোই ঠিক হয় হাসপাতাল। কবে অপারেশন হবে তার তারিখ ওয়াটের পরিবারকে জানিয়ে দেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে যাওয়ার আগে একদিন মাকে নিজের ইচ্ছের কথা জানায় ছোট্ট ওয়াট। বলে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে একবার সত্যিকারের ইউনিকর্নের পিঠে চড়তে যায় সে।

    মাথায় হাত পড়ে ওয়েটের মায়ের। মন্টানার বাসিন্দা বছর সাতাশের করিসা হ্যাস বুঝতেই পারেন না কীভাবে পূরণ করবেন ছেলের সাধ। সেই সময়েই পাশে দাঁড়ায় ওয়েটের স্কুলের বাকি বাচ্চাদের মায়েরা। সবাই মিলে ছোট্ট ওয়াটের জন্য আয়োজন করেন এক পার্টির। ছোটোখাটো পার্টি হলেও তাতে আড়ম্বরে খামতি ছিল না। এলাহি আয়োজন না থাকলেও বাচ্চাদের জন্য কেক, ফ্রুট জুস ছিল মেনুতে। আর ওয়াটের জন্য সারপ্রাইজ হিসেবে হাজির ছিল আসল ইউনিকর্ন।

    এই পার্টির মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ওয়াটের এক সহপাঠীর মা জেনিফার নিয়েলসেন। একদিন নিজের ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়েই করিসার মুখে ওয়াটের এই ইচ্ছে কথা জানতে পারেন জেনিফার। বাড়ি এসে বেশ খানিকক্ষণ ভাবার পরেই মাথায় আসে পার্টির আইডিয়া। নিজের ছেলের ক্লাসের বাকি বাচ্চাদের মায়েদের সঙ্গে তখনই যোগাযোগ করেন জেনিফার। তাঁর কথায়, “ওয়াটের মতো অসুখ আমার ছেলেরও হতে পারত। আর এই একই ইচ্ছের কথা আমার ছেলেও বলতে পারত। ব্যাপারটা সেরকম হলে আমি জানপ্রাণ লড়িয়ে নিজের ছেলের সাধ পূরণের চেষ্টা করতাম। ওয়াটের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই করেছি। ও তো আমারই ছেলেরই বন্ধু। আমার ছেলেরই মতো।“

    কিন্ডারগার্ডেনের পড়ুয়া ওয়াট। তার জন্য পার্টি দিচ্ছে স্কুলের বন্ধুর মায়েরা। সব শুনেই তো উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটতে শুরু করে এই খুদে। উৎসাহে কোনও কমতি ছিল না ওয়াটের বন্ধুদের মধ্যেও।  তবে সব আয়োজন হলেও ইউনিকর্ন কীভাবে আসবে তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন ওয়াটের বাবা-মা।  সেই ব্যবস্থাও করে ফেলেছিলেন জেনিফার। পার্টিতে হাজির করেছিলেন নিজের বাড়ির প্রিয় বোনাঞ্জাকে। ধব্ধবে এই সাদা ঘোড়াকে সাজানোও হয়েছিল দারুণ ভাবে। পিঠে আঁকা হয়েছিল নানা রংয়ের নকশা। আর মাথায় বসানো হয়েছিল রুপোলি রংয়ের একটা শিং। বোনাঞ্জার সঙ্গে হাজির ছিল লিলি। জেনিফার ছাড়াও আর এক পড়ুয়ার মা ব্যবস্থা করেছিলেন এই ঘোড়াটির। খুব কম সময়ের মধ্যেই সুন্দর করে সবটা আয়োজন করে ফেলেছিলেন জেনিফার এবং বাকি মায়েরা। হাজির ছিল ওয়াটের প্রায় সব স্কুলের বন্ধু।

    ওয়াটের বাবা-মা জানিয়েছিলেন যা কিছু একটু রঙিন তাই বড় পছন্দ তাঁদের ছেলের। আর ইউনিকর্নের পিঠে চড়ে ঘোরার শখ বহুদিন থেকেই ছিল ওয়াটের। এবার তা পূরণ হল। পার্টিতে হাজির বাকি বাচ্চারাও ইউনিকর্নের পিঠে চড়ে ঘোরার সুযোগ পেয়েছিল। তবে পার্টির মধ্যমনি ছিল ওয়াট। মাথায় মুকুট পরে একদম রাজকীয় ভঙ্গিতে ইউনিকর্নের পিঠে চড়ে গোটা পার্টিতে হাসিমুখে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More