শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

ডিমের সেরা দশ রেসিপি, না চাখলে জীবনই বৃথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল-সোনালী ঝোলে পেলব আলুর মাঝে উঁকি দেওয়া ডিমের স্বাদ চাখেননি এমন মানুষ বোধহয় বিরল। ঝাল-ঝোল-অম্বল থেকে নেহাতই মামুলি পেঁয়াজ দিয়ে ঝুরো বা পরোটার সঙ্গে মাখিয়ে এগ রোল— কোনও কিছুতেই আপত্তি থাকে না ভোসনরসিকদের। স্বাস্থ্য সচেতনরা আবার ঝাল ঝোলের বিরোধিতা করে ছাপোষা সিদ্ধ ডিম বা হাফ বয়েলেই রসনা তৃপ্ত করে নেন। একটু সাহেবি কায়দায় স্বাদ বদলাতে স্ক্র্যামবেল্ড এগ বা বিফ-পর্ক ঠেসে ওমলেটের নিত্য নতুন কায়দাকে ইউ টিউবের দৌলতে রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছেন অনেকেই। অতএব, ডিমই প্রেম। চিকিৎসকদের ভাষায় সুষম খাবারও বটে, আবার ডিম-প্রেমিকদের কাছে সহজলোভ্য, সহজপাচ্য ডিশও বটে।

ডিম শুধু রসনাবিলাসের উপকরণ নয়, প্রত্যন্ত এলাকার কচিকাঁচাদের কাছে পুষ্টির একমাত্র উপকরণও বটে। তাই মিড ডে মিলের থালায় ছোট মাছ না জুটুক, ডিমটুকু রাখার চেষ্টা করা হয়। ডিম তাই সর্বত্রই। প্রাতরাশ থেকে নৈশভোজ— আপনার ডিমময় জীবনকে আরও রাঙিয়ে তুলতে থুড়ি ডিমের আরও নানা বাহারি পদ দিয়ে ভরিয়ে দিতে কিছু নতুন রকমের রেসিপি পরিবেশন করা হল। কোনওটা কলকাত্তাইয়া বাঙালি স্টাইলে, কোনওটা দক্ষিণী ধাঁচে, কোনওটা আবার নবাবি ঘরানার আলতো টাচে ভরপুর। চলুন দেখে নেওয়া যাক রেসিপিগুলি কী কী—

কোদি গুড্ডু গাসাগাসালা কুরা

নাম শুনে চমকে গেলেও খাবারের পাতে মাছ, মাংসের সঙ্গে জোর টক্কর হবে এই পদের। সিদ্ধ ডিম হালকা ভেজে পোস্তর সঙ্গে মাখামাখি হয়ে স্বাদকোরকে তুফান তুলবে গ্যারান্টি। এই রেসিপি অন্ধ্রপ্রদেশের। পোস্ত, টম্যাটো, পেঁয়াজ কুঁচি, আদা-রসুন ও মশলা সহযোগে ডিমের কোদি গুড্ডু খেতে মন্দ লাগবে না। ভাত, রুটির দুয়ের সঙ্গেই যাবে এই ডিশ। খাওয়ার আগে কারির উপরে একটু ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।

ডিমের পাতুরি

পাতুরি মানেই তাতে বাঙলার মাটির টান। ঘন সর্ষে বাটা আর কলাপাতার যুগলবন্দি। সিদ্ধ ডিম ঘন সর্ষে বাটায় মাখিয়ে কলাপাতয় মুড়ে ঢিমে আঁচে রান্না। ভাতের পাতে কলাপাতা থেকে বেরিয়ে আসা মাখোমাখো সর্ষের সঙ্গে ডিমের সঙ্গটা একেবারেই খারাপ লাগবে না। কাঁচা লঙ্কার সঙ্গে বেশ জমে এই রেসিপি। অনেকে আবার রুটি দিয়েও খেতে ভালবাসেন।

নার্গিসি কোফতা

অওধ স্টাইলে রাঁধতে হবে এই ডিশ। তাতে যেন থাকে নবাবি মহলের খাস বাবুর্চির মেজাজ। সিদ্ধ ডিমের জন্য আগে বানাতে হবে একটা মিশ্রণ। আদা-রসুন-পেঁয়াজ কষিয়ে তাতে মাংসের কিমা দিয়ে রাঁধতে হবে। সেই পেস্টে ডিম চুবিয়ে লাল করে ভেজে তারপর গ্রেভি। ঝোলটাও হবে তেল ও ঘিয়ে বেশ মাখামাখি। গরম মশলা সহযোগে ঝোলের মধ্যে ডিমের কোফতাগুলো ফেলে কষিয়ে নিলেই কেল্লাফতে। তার পর কোথায় নবাব আর কোথায় অওধ, আপনার হাতেই চেটেপুটে বাজিমাত করে দেবে নার্গিসি কোফতা।

এগ বোন্দা

দেশি-বিদেশির ফিউশন বলা যেতে পারে এই ডিশকে। এগ বোন্দা আসলে ডিমের পকোড়ারই বাহারি নাম। ব্রেড ক্রাম্প, বেসন, চাট মশলা দিয়েই বানাতে হবে পকোড়া। স্বাদ বাড়াতে পেঁয়াজ, লঙ্কা, ধনেপাতা যোগ করতে পারেন। ব্রেড ক্রাম্প দিয়ে পকোড়া হবে মুচমুচে, স্বাদে চটক আনবে চাট মশলা। পুদিনার চাটনি বা টোম্যাটো সসে মাখিয়ে চায়ের আড্ডায় বেশ জমবে এগ বোন্দা।

এগ ধোসা

দক্ষিণী ধাঁচে ধোসার সঙ্গে ডিমের মিশ্রণ। ধোসা বানানোর উপকরণ দিয়েই বানাতে হবে এই ডিশ। ধোসার ব্যাটার ছড়িয়ে তার উপর ঢেলে দিতে হবে ডিমের ব্যাটার। শুধু ডিমও হতে পারে আবার ওমলেটের মতো ব্যাটার বানিয়েও করতে পারেন। হালকা ভেজে তুলে নিতে হবে। ধনে পাতা কুঁচি, কাঁচা লঙ্কা কুঁচি দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন এগ ধোসা। বাড়িতে অতিথি এলে সন্ধের হালকা স্ন্যাকসে এই রেসিপির কোনও তুলনাই নেই।

এগ স্লাইস মশলা

বাংলার ডিমের কারিরই জাত ভাই এগ স্লাইস মশলা। সিদ্ধ ডিম ছাড়িয়ে টুকরো করে ভেজে নিতে হবে। তার পর যে ভাবে কারি বানায় সেই একই স্টাইলে বানাতে হবে গ্রেভি। চাইলে আলু দিতে পারেন। তেলের আধিক্যে স্বাদ বাড়বে নিঃসন্দেহে, তবে কম তেলেও রাঁধা যাবে এই পদ। অনেকেই স্বাদ বাড়াতে কড়াইয়ে ঘি গরম করে পেঁয়াজ ভেজে কারি বানান। যে ভাবেই হোক এই পদের স্বাদ অনবদ্য। গরম ভাতে কোনও তুলনাই নেই।

ডিমের পরোটা/বায়দা রুটি

মূলত পরোটা। অনেকে আবার রুটিও বলেন। ঈদের দিনেও এই ধরনের রুটি বানিয়ে পরিবেশন করা হয়। ময়দার লেচির মধ্যে মাংসের কিমা ও ডিমের ঝুরি ভরে পরোটার মতো ভাজতে হবে। বেশ মোটা হবে এই পরোটা। মাংসের কিমার সঙ্গে অনেকে সব্জির পুরও দিয়ে থাকেন। বড় আকারে পরোটা বানিয়ে ছোট করে কেটে চাটনি বা সসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এই পদ। দোকানের পিৎজা খেয়ে যারা ক্লান্ত, তারা বাড়িতে ডিমের পরোটা বানিয়ে খেয়ে দেখুন। সান্ধ্য আড্ডা জমে যাবে গ্যারান্টি।

কেরল এগ রোস্ট

কেরলের রেসিপি হলেও সারা ভারতে বেশ চল রয়েছে এই ডিশের। সিদ্ধ ডিম গরম মশলায় ম্যারিনেট করে রেখে দিতে হবে। তার পর শুধু টোম্যাটো ও পেঁয়াজের সঙ্গে কষাতে হবে ডিম। এই রান্না একটু বেশি স্পাইসি। গ্রেভি হবে মাখোমাখো। ভাত, রুটি বা পরোটা যার সঙ্গে খুশি খান।

ডিমের কিমা

তড়কার মতো বানাতে পারেন এই ডিশ। ডিমের মিশ্রণ বেশ ভাল করে পেঁয়াজ, রসুন, মশলা দিয়ে কষিয়ে তাতে গোটা বা অর্ধেক করে কাটা ডিম ফেলে দিয়ে বানাতে হবে। আবার অনেকের তড়কা বা রাজমা দিয়েও বানান ডিমের কিমা। ডিমের কিমা হলেও গ্রেভিতে মাংসের টুকরো বা সোয়াবিনও যোগ করতে পারেন। তাতে স্বাদ আরও বাড়বে।

ডিমের চাট

সব্জি, পেঁয়াজ, লঙ্কা, স্প্রিং ওনিয়ন ভাল করে ভেজে তাতে টোম্যাটো সস, কাশ্মিরী লঙ্কা গুঁড়ো আর টুকরো করে কাটা ডিম ফেলে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে। স্বাদ বাড়াতে ধনে পাতা বা কারি পাতাও যোগ করেন অনেকে। কম তেলে মাখন দিয়েও রাঁধা যায় চাট। স্পাইসি করেও খেতে পারেন, আবার নিতান্তই সিদ্ধ সব্জি হালকা তেলে ডিমের সঙ্গে ফ্রাই করেও বানাতে পারেন ডিমের চাট।

Comments are closed.