সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

স্বাধীনতা দিবসে চালু হয়েছিল ভুতনি সেতু, বিতর্কের জেরে বন্ধ হল দু’দিনেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: সেতু উদ্বোধন করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর, কিন্তু হঠাৎই স্বাধীনতা দিবসের দিন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উদ্যোগে উদ্বোধন হয়ে যায় সেতুর। শুরু হয়ে যায় তুমুল বিতর্ক। ঠিক দুদিনের মাথায় সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেল ভুতনি সেতুতে যান চলাচল। সূত্রের খবর এই ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েন সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

মালদা জেলার মানিকচক ব্লকের অন্তর্গত ভুতনি চর। গঙ্গা ও ফুলহার নদী দিয়ে ঘেরা এই চরে তিন গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষাধিক মানুষের বাস। বহু বছর ধরে এই চরের বাসিন্দাদের মূল ভূখণ্ডে আসতে হয় নৌকোয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। স্বাধীনতার পর থেকে ভুতনি চরের মানুষদের একটাই দাবি ছিল, ভুতনি চরকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য পাকা সেতু হোক ফুলহর নদীর উপর। বহু আন্দোলনের পর ২০১৪ সালে তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব ও মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রর উদ্যোগে শিলান্যাস করা হয় ভুতনি সেতুর। বরাদ্দ করা হয় ১৩১ কোটি টাকা। ওই বছরেই শুরু হয় কাজ। ৯৫ শতাংশ কাজ হয়েছে ভুতনি সেতুর। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধন করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু কাজ পুরো শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি স্বাধীনতা দিবসের দিন সেতু উদ্বোধন করে দেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্রবাবু। একরকম বাধ্য হয়েই ভুতনি ব্রিজে হালকা যান চলাচলের অনুমতি দেয় পূর্ত দফতর। খুশিতে মেতে ওঠেন এলাকার মানুষ।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই ফের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পূর্ত দফতর। শনিবার বিকেলে ব্রিজ নির্মাণকারী সংস্থার তরফে ভুতনি সেতুতে যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে মাইকে প্রচার করা হয়। এ দিন সকাল থেকে পূর্ত দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেওয়া হয় নির্মাণকারী সংস্থার তরফে। যাতে লেখা ব্রিজের কাজ চলার কারণে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। আর এতেই ক্ষুব্ধ ভূতনিবাসী। সোমবার সকালে ব্রিজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ঘিরে ক্ষোভও প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর কাজ যখন শেষ হয়নি তাহলে কেন দু দিন আগে তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করলেন সভাধিপতি? ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, ব্রিজে চলাচল করতে না দিলে সমস্যায় হবে। তাঁরা বলেন, “আমরা চাই মোটরবাইক- সাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হোক। নইলে আমরা আগামী দিনে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। ভূতনির মানুষের প্রয়োজন নিয়ে ছেলেখেলা করা হচ্ছে।”

Comments are closed.