শনিবার, নভেম্বর ১৬

মিডডে মিলে ভাতের সঙ্গে শুধুই নুন, খবর পেয়ে চুঁচুড়ার বাণীমন্দিরে লকেট

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : মিড ডে মিলে শুধু নুন ভাত। কখনও ভাতের সঙ্গে এক আধ টুকরো আলুসেদ্ধ। গত কিছুদিন ধরে এমনটাই দস্তুর হয়ে পড়েছে চুঁচুড়ার বাণীমন্দির স্কুলে। পুরো সময়ের প্রধানশিক্ষিকা দূরের কথা, স্কুলে কোনও টিচার ইনচার্জও নেই। সাইনিং অথরিটি না থাকাতেই এমন হাল। বলছেন শিক্ষিকারা। আর পরিচালন কমিটির সভাপতির দাবি, শিক্ষিকারাই এমন অচলাবস্থার জন্য দায়ী। কারণ ম্যানেজিং কমিটির বেছে নেওয়া টিচার ইনচার্জকে মানতে রাজি নন তাঁরা।

মিডডে মিলে নুন ভাত দেওয়ার খবর পেয়ে আজ দুপুরে হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বাণীমন্দির স্কুল পরিদর্শনে এলে পরিচালন কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন শিক্ষিকারা। অন্যদিকে মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের শুধু নুন ভাত পরিবেশনের খবরে রেগে যান সাংসদও। তবে স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়ের পরামর্শ, “এ রাজ্যের স্কুলের মিড ডে মিল না দেখে সাংসদ বরং উত্তরপ্রদেশের স্কুলগুলিতে চলা মিডডে মিল ব্যবস্থা খতিয়ে দেখুন।”

বাণীমন্দির স্কুলে গিয়ে লকেট এ দিন বলেন, “শুধু অব্যবস্থা নয়, অবাধে দুর্নীতিও চলছে এই স্কুলে। শুনলাম, ২৫ হাজার টাকার ডিম কেনা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রীরা পায়নি একটাও। দুশো ছাপান্ন বস্তা চালের কোনও হদিশ নেই। গত কয়েক মাস ধরে কখনও ফেনা ভাত কখনও আলু সেদ্ধ ভাত খেতে হচ্ছে ছাত্রীদের। ডিআই থেকে ডিএম সর্বত্র জানানো হয়েছে। কোনও সুরাহা হয়নি। ছাত্রীদের মুখের খাবার যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের রেয়াত করা হবে না।”

স্কুলের শিক্ষিকারা জানান, ২০১৭ সালে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অবসর নেন। এরপরে যিনি টিচার ইনচার্জ হয়েছিলেন, জুলাই মাসে তিনি অন্য স্কুলে বদলি হয়ে যান। তারপর থেকেই আর কোনও টিআইসি নেই স্কুলে। স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “স্কুলের শিক্ষিকাদের মধ্যে থেকেই একজনকে বেছে নিয়েছিলাম আমরা। টিচার ইনচার্জ হিসেবে। কিন্তু স্কুলের শিক্ষিকারা তাঁকে মানতে নারাজ।” অন্যদিকে স্কুলের শিক্ষিকাদের দাবি, “আমরা যাকে টিচার ইনচার্জ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম, তিনি এমএসসি বিএড। ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। কিন্তু উনি যাকে টিচার ইনচার্জ করতে চাইছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা মাত্র ন’ বছরের। তাই তাঁকে টিচার ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে পারছি না আমরা।”

এই টানাপড়েনেই পঠনপাঠন কোনওমতে চললেও শিকেয় উঠেছে স্কুলের মিডডে মিল। গৌরীকান্তবাবু বলেন, “পরিচালন সমিতির ঠিক করে দেওয়া টিআইসিকে অন্য শিক্ষিকারা মানছেন না। সই করার অথরিটি না থাকায় এই অবস্থা। টাকা নেই এমন নয়। কেউ কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। গোটাটাই অন্তর্ঘাত। দুর্নীতির অভিযোগও মিথ্যে।”

শিক্ষিকারা বলেন, “গোটা বিষয়টি জানেন ডিআই ও জেলাশাসক। কবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে পারবে স্কুল সে দিকেই এখন তাকিয়ে আমরা।”

Comments are closed.