সোমবার, আগস্ট ১৯

ড্যান্সবারে ধরপাকড়, জেলে গেলেন সঙ্গীত শিল্পীরাও, জলপাইগুড়ি জুড়ে ক্ষোভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: মঙ্গলবার রাতে আচমকাই খদ্দের সেজে ঢুকে জলপাইগুড়ির এক বিলাসবহুল হোটেলের বার থেকে ১৩ জন মেয়েকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ১৩ জনের সঙ্গেই  সেই মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত মোট ৬২ জনকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে আসা হয়। রাতে ৩৪ জনকে থানা থেকে জামিন দেওয়া হলেও ছাড়া পাননি ২৮ জন। এঁদের মধ্যে যেমন রয়েছে হোটেলের কুক এবং ওয়েটার, পাশাপাশি রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীরা। আদালতে তোলা হলে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে এঁদের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাকি ২৩ জনকে পাঠানো হয় জেল হেফাজতে। আর এই নিয়ে এখন প্রতিবাদে সরগরম গোটা জলপাইগুড়ি।

পানশালা কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া শিল্পীদের মুক্তির দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেধে শুক্রবার কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন শহরের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে সাতজন সঙ্গীত শিল্পীকে পুলিশ অন‍্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। এরা নিরাপরাধ বলে দাবি করে অবিলম্বে এঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনকারী সঙ্গীত শিল্পীদের পক্ষে অনিমেষ দত্তগুপ্ত জানান, তিনদিন আগে পানশালায় অভিযান চালিয়ে হোটেলের সমস্ত কর্মীদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই হোটেলের পানশালায় গান করতেন ও বাজনা বাজাতেন সাতজন। তাদেরকেও  রেয়াত করেনি। বরং অন্যায় ভাবে তাঁদের বিরুদ্ধেও ৩৭০ ধারা  অর্থাৎ মানব পাচার, ৩৭০এ/২ অর্থাৎ পাচারের শিকার ব্যক্তিকে শোষণ ও ১২০বি ধারায় চক্রান্তে জড়িত থাকার মামলা দিয়ে তাদের জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। গান বাজনা তাঁদের রুটি রুজি। ওই হোটেলে কে নারী পাচারে জড়িত তার সঙ্গে তাঁদের কী সম্পর্ক?

সিঙ্গিং বারের আড়ালে দেহ ব্যবসা ও নারী পাচার চলছে বলে খবর পেয়েই গত মঙ্গলবার ওই হোটেলে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু তারপর হোটেল থেকে কেন উপস্থিত ৬২ জনকেই থানায় নিয়ে আসা হল, বা তাদের মধ্যে কেনই বা ৩৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হল, এবং একই ধারায় ধৃত ২৮ জনের মধ্যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হল, তাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে শহরে।

তবে পুলিশের দাবি, ওই হোটেলে দেহ ব্যবসা ও নারী পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে যাওয়া এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ১৩ জন তরুণীকে উদ্ধারও করা হয়। যাদের ধরে আনা হয়েছিল থানায় আনার পর কথা বলে তাঁদের অনেককেই সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যে পাঁচজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখার আর্জি জানানো হয়েছে তাদের নাম ওই তরুণীর দায়ের করা এফআইআরে ছিল। এবং বাকি ২৩ জনও কোনও না কোনও ভাবে ওই ঘটনায় জড়িত।

হোটেলের মালিক প্রাথমিকভাবে তাঁর হোটেলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে গা ঢাকা দেন। হোটেল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৩ জন তরুণীকে আদালতে তোলা হলে তাদের সরকারি হোমে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুজনকে তাদের বাড়ির লোক নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

 

Comments are closed.