বুধবার, অক্টোবর ১৬

সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেফতার বিজেপির নেতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা কায়ুম মোল্লা খুনের ঘটনায় ওই এলাকার এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার ভোর রাতে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় জগদীশ মণ্ডল নামে ওই ব্যক্তিকে।

গত শনিবার বিজেপির দুই কর্মীকে খুনের অভিযোগে মেছো ভেড়ির চালাঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল চার তৃণমূল কর্মীকে। বিজেপির কর্মী খুনের অভিযোগে তৃণমূলের কর্মীদের ধরা হলেও, তৃণমূল নেতা কায়ুম মোল্লা খুনে কেউ কেন এতদিন গ্রেফতার হয়নি, সেই প্রশ্নে সরব হন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই রীতিমতো চাপে পড়ে যায় পুলিশ। শেষপর্যন্ত আজ ভোর রাতে কায়ুম মোল্লা খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় সন্দেশকালির ওই বিজেপি নেতাকে।

গত ৮ই জুন তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে তেতে ওঠে সন্দেশখালির হাটগাছি। মৃত্যু হয় তিনজনের। এঁদের মধ্যে দুজন প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল বিজেপির কর্মী বলে দাবি। খুন হন তৃণমূলের নেতা কায়ুম মোল্লা। সেই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে। ঢেউ পৌঁছোয় দিল্লি পর্যন্ত। অভিযুক্তদের খোঁজে চলছিল তল্লাশি। শনিবার গভীর রাতে হাটগাছি অঞ্চলের নলকোড়া শেখপাড়ার এক মেছো ভেড়ির চালায় অভিযুক্তরা লুকিয়ে আছে খবর পেয়ে হানা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় চারজনকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বাড়িঘর ভাঙচুর, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও বেআইনি অস্ত্র মজুদ সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই হাটগাছি গ্রামে বাড়ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে বিজেপির কর্মীরা পতাকা লাগাচ্ছিল বলে অভিযোগ। তারই প্রতিবাদে গত ৮ জুন সন্ধে ৬টা নাগাদ প্রতিবাদ মিছিল শুরু করে তৃণমূল কর্মীরা। সেই মিছিলেই হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা হামলার দাবি করে বিজেপি। দু পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। শাসক দল  দাবি করে, বিজেপি কর্মীদের হামলায় মৃত্যু হয়েছে কায়ুম মোল্লা-সহ আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর। পাল্টা বিজেপি দাবি করে তৃণমূলের হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাদের দুই কর্মী প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলের।

Comments are closed.