শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

নতুন পথে বর্ধমান, কন্যাকে স্বাগত জানাতে বাছাই বাড়িতে এ বার কার্তিকের সঙ্গে লক্ষ্মীও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তিনি বিশাখ, তিনি ষড়ানন, তিনি সৌরসেন, তিনিই দেবসেনাপতি। মা দুর্গার এই সন্তানটিকে নিয়ে বাঙালির আবেগ কম নয়। ভক্তির সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আরও কত গল্পকথা।

কার্তিক পুজোর আগে নবদম্পতিদের বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর রেখে আসার চল নতুন নয়। বহু দিন ধরেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাঙালি। বিয়ে হয়েছে কিন্তু সন্তান হয়নি, কিংবা কন্যা সন্তান রয়েছে, পুত্র নেই এমন বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর রেখে আসেন স্বজন-বন্ধুরা। ঘটা করে সেই কার্তিক পুজো করলেই নাকি কার্তিকের মতো পুত্রলাভ নিশ্চিত। এ বিশ্বাস যুগে যুগে লালন করে বাঙালি। এ বার এই ধারার বাইরে হাঁটল শহর বর্ধমান।

শনিবার সন্ধ্যায় কার্তিকের সঙ্গেই বাছাই করা বাড়িগুলিতে রেখে আসা হল লক্ষ্মী প্রতিমাও। এই ঘটনায় অবাক কার্তিক পাওয়া দম্পতিরা। রীতি অনুযায়ী, কার্তিক পুজোর আগের রাতে বাড়ির সামনে বা সদর দরজায় কার্তিক ঠাকুর রেখে আসা হয়। শনিবারও বর্ধমান শহরের বিধানপল্লি, তেজগঞ্জ, গোলাপবাগ, রাজবাটি, বড়বাজার সহ একাধিক এলাকায় অনেকের বাড়িতেই কার্তিক রেখে আসা হয়। তবে শহরের বাজেপ্রতাপপুর, হটুদেওয়ান এলাকায় তিনটি বাড়িতে কার্তিকের সঙ্গে রেখে আসা হয় লক্ষ্মী প্রতিমাও।

অভিনব এই উদ্যোগ বর্ধমান শহরের দুই যুবক জয় ভট্টাচার্য ও কিরণ সামন্তের। দীর্ঘদিন নানাধরণের সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা। তাঁদের মাথাতেই আসে এই অভিনব ব্যাপার। তাঁরা জানান, নিঃসন্তান দম্পতিরা কার্তিক পুজো করেন। বাড়িতে কার্তিকের মত পুত্র আসুক এই থাকে প্রার্থনা। কিন্তু কেন লক্ষ্মীর মতো কন্যা সন্তানকে আহ্বান করা হবে না? সেই দাবি নিয়েই এই আয়োজন। জয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘দিকে দিকে মহিলাদের অগ্রগতির কথা বলা হচ্ছে। সরকার কন্যাশ্রী এবং ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ মত প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। ভ্রূণ নির্ধারণ বন্ধ হয়েছে। কিন্তু সমাজের মানসিকতায় বদল আসছে কি? এখনও কন্যা ভ্রূণ হত্যা হচ্ছে, কন্যা সন্তানকে ফেলে দিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে আকচার। তাই এই চিন্তাভাবনা। শুধু পুত্র লাভের জন্য কার্তিক পুজো নয়, সন্তান লাভের জন্য একইসঙ্গে হোক লক্ষী- কার্তিকের আরাধনা।’’

এই চিন্তাভাবনা নিয়েই শনিবার নব বিবাহিত তিনজনের বাড়িতে কার্তিক ও লক্ষ্মীপ্রতিমা রেখে আসা হয়। যাদের দেওয়া হয়েছে, তাঁরাও বিষয়টি সাদরে গ্রহণ করেছেন। রবিবার দুই দেবতারই আরাধনা হয়েছে সাড়ম্বরে।

Comments are closed.