মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

বিজেপির সংকল্প যাত্রা ঘিরে অশান্তির পর এখনও থমথমে পুন্ডিবাড়ি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার : বিজেপির সংকল্প যাত্রা ঘিরে অশান্তির পর আজও থমথমে পুন্ডিবাড়ির পাতলাখাওয়া। রাতভর পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে আটক করে বেশ কয়েকজনকে। এখনও পুলিশের টহলদারি চলছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।

মৃত তৃণমূল নেতা মজিরুদ্দিন সরকারের পরিবারের সঙ্গে আজ দেখা করেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ওই নেতাকে তৃণমূল পিটিয়ে মেরেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজেপির সংকল্প যাত্রা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলের পর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাতলাখাওয়া অঞ্চল। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় তৃণমূলের চারটি দলীয় কার্যালয়। সংঘর্ষের মাঝে পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মজিরুদ্দিন সরকারের (৪৮)।

সংকল্প যাত্রাতে উপস্থিত বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে কালো পতাকা দেখানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। এরপরেই বিজেপির কর্মী সমর্থকরা দলে দলে এলাকায় এসে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের চারটি দলীয় কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয়ে যায় তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বিশাল পুলিশবাহিনী। দলীয় অফিস ভাঙার প্রতিবাদে পাতলাখাওয়াতে পথ অবরোধ শুরু করে তৃণমূল।

সংঘর্ষ চলাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মজিরুদ্দিন সরকারের। রাস্তার উপরেই পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। দলের কর্মী সমর্থকরা তাঁকে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। মজিরুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা জানান, যে ভাবে বোমাবাজি চলছিল তাতেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মজিরুদ্দিন।

বিজেপির নেতারা অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা সুকুমার রায় বলেন, “তৃণমূল নিজেই নিজেদের দলীয় কার্যালয় ভেঙেছে। এখন বিজেপিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।” তৃণমূলের লোকেরাই বিজেপির ওপর হামলা করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেন, রাজ্যজুড়েই অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। পুন্ডিবাড়িতেও সংকল্প যাত্রার নামে সেই ধারাই বজায় রেখেছে বিজেপি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “জেলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করছেন বিজেপির জেলা সভানেত্রী ও সাংসদ। কিন্তু এলাকার মানুষই তা হতে দেবেন না।”

Comments are closed.