সোমবার, আগস্ট ১৯

সুন্দরবন নয়, এ বার ম্যানগ্রোভ দেখতে চলুন গঙ্গার ধারে, বোটানিক্যাল গার্ডেনে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : ভেসে বেড়াচ্ছে শ্বাসমূল। হারগোজা, বাইন, ওঁরাও, কৃপান, সমুদ্র পানলতার। শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশ ধরে গঙ্গার তীর বরাবর। ঠিক যেন একটুকরো সুন্দরবন। নোনা জলের এই ম্যানগ্রোভকে গঙ্গার মিঠে জলে ভেসে বেড়াতে দেখে সে দিন চোখ কপালে উঠেছিল বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের। পরে তাঁরা বুঝতে পারেন এ সমস্তই গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ফল।

এখানকার উদ্ভিদ বিজ্ঞানী বসন্ত সিংহ জানান, গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। নোনা জল ঢুকে পড়ছে গঙ্গাতেও। তারফলেই গঙ্গার ফ্রেশ ওয়াটারেও ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ জন্মানোর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সে ঘটনা গত বছরের অক্টোবর মাসের। দ্য ওয়ালের পাতায় প্রকাশিতও হয়েছিল সে খবর।

গঙ্গার পার বরাবর ম্যানগ্রোভ বেড়ে উঠতে দেখে তখনই শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, গঙ্গার পাড় বরাবর দু কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তৈরি করা হবে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। গত ৬ জুলাই বিশ্ব অরণ্য সপ্তাহের প্রথমদিন এই কাজ শুরু হল। প্রাথমিকভাবে বসানো হল দু হাজার গাছ। বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর এ এ মাও সহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

 

 

এখানকার উদ্ভিদ বিজ্ঞানী বসন্ত সিংহ জানান, গত দশ বছর ধরেই এই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলেন তাঁরা। সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় গঙ্গার মিঠে জলে মিশে যাচ্ছিল সমুদ্রের নোনা জল। তাই শুধু শিবপুরের গঙ্গার পাড় নয়, গঙ্গার উপর অন্যত্রও মিলেছে ম্যানগ্রোভের খোঁজ। সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়া যেমন একটা কারণ, তেমনই ইনওয়ার্ড মাইগ্রেশনও এর অন্যতম কারণ বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বসবাসের জন্য সুন্দরবনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। তাই ইনওয়ার্ড মাইগ্রেশন হচ্ছে। ওই সব গাছের বীজ ভেসে এসে অনুকূল পরিবেশে গাছ জন্মাচ্ছে।

এই সমস্ত মাথায় রেখে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন গঙ্গার পাড়ে ম্যানগ্রোভ বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এতে পর্যটকরা বেড়াতে এসে যেমন ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখতে পাবেন,পাশপাশি গাছ সংরক্ষণ ও গবেষণাও করা যাবে।

তাই বাঘের দেখা হয়তো মিলবে না, কিন্তু শহর থেকে অল্প দূরেই গঙ্গায় নৌকো নিয়ে ভেসে পড়লেই এ বার দেখা মিলবে এক টুকরো সুন্দরবনের।

Comments are closed.