১৭২ হাজার বছর আগে থর মরুভূমি দিয়ে বয়ে গেছিল এ কোন নদী! হতবাক গবেষকরাও

৫৯০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি এক রিসার্চের মাধ্যমে ১৭২ হাজার বছর আগে এক নদী বয়ে যাওয়ার হদিস পাওয়া গেছে রাজস্থানের বিকানীরের থর মরুভূমিতে! নদীর ধারে হয়তো কোনও জনবসতিও ছিল, এমনটাও মনে করছেন অনেকে। কোয়ান্টারি সায়েন্স রিভিইয়ের জার্নালে এই বক্তব্যটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই জানা যায় থর মরুভূমির মধ্যভাগের নল কোয়ারির এই নদীই সবচেয়ে পুরোনো।

জার্মানি ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান হিস্ট্রি, ভারতের তামিলনাড়ুর অ্যানা ইউনিভার্সিটি ও কলকাতার আইআইএসইআর এর একটি রিসার্চ থেকে জানা যায়  বিকানীরের কাছের এই নদী ওখানকার অন্য নদীর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। রিসার্চাররা জানান থর মরুভূমির কাছে ঘঘর হাক্কা নদীর নানান কার্যকলাপও তারা একসঙ্গে রিসার্চ করছেন।

থর মরুভূমির মাঝের এই নদীর ধারে হয়ত পালিওলিথিক যুগের মানুষেরা বসবাস করতেন। ওখানে বেশিরভাগ যাযাবরাই জীবনযাপন করছেন বলেই তাদের অনুমান। তবে পাথুরে যুগের মানুষেরা একেবারে অন্যভাবে জীবনযাপন করত। কয়েকজন রিসার্চাররা দুঃখ প্রকাশও করেছেন এর আগে কেন এর হদিস পাওয়া যায়নি।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান হিস্ট্রির রিসার্চার জীমব জানান, “থর মরুভূমি বহু পুরোনো ইতিহাসের সাক্ষী। আমরা জানতে তখনকার দিনের মানুষেরা এই মরুভূমির ধারে জল কীভাবে পেত, জীবনযাপনই বা কীভাবে করত।” মিঃ ব্লিনকন জানান, “আমরা সবাই জানি সভ্যতায় নদীর অবদান কতটা। কিন্তু এখন আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছি এত বছর আগের নদীর নানা সিস্টেম নিয়ে।”

আন্না ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হেমা অচ্যুথান জানান, “নদী কবে বুজে গেছে তা হয়ত কেউ বের করতে পারবে না। কিন্তু কোন দিকে বয়ে গেছে সে সম্পর্কে জানা যাবে ভবিষ্যতে। নদীর চ্যানেলের বয়স জানান আগের তার পাশের গ্রাউন্ডের ব্যাপারে পরীক্ষা করতে হবে। কেমন ভাবে নদীর ধারে বসবাস করত না জানতে পারলে চ্যানেল সম্পর্কেও জানতে পারব না।”

একটি পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন ১৭২ বা ১৪০ হাজার বছর আগে রিভার অ্যাক্টিভিটি সবচেয়ে বেশি ছিল। যদিও মরুভূমিতে এখনকার মতো তখন বর্ষাকালে এত বৃষ্টি হত না। আর এই সময়ই নদীর গতিবেগ সবচেয়ে বেশি ছিল বলেই রিসার্চাররা মনে করছেন।

জানা যায় আদিম মানুষেরা এইখানেই জীবনযাপন করতেন। এই নদী নানা ইতিহাসের এবং এক কঠিন সময়েরও সাক্ষী। তখনকার মানুষ নদীর পাশে কীভাবে কাটাতেন বা জলের ব্যবহার কেমন করে শিখলেন, নদীর বালি, জলের মান, নানা কিছু নিয়েই এখনও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে বলে তাঁরা জানান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More