শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

গলা থেকে এক কেজি ওজনের টিউমার বাদ দিয়ে তরুণীর প্রাণ বাঁচালেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জটিল অস্ত্রোপচার করে ফের সাফল্য পেলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা । প্রাণ বাঁচল এক তরুণীর। গলার রক্তজালিকার ভিতর বিরাট মাপের ওই টিউমারের (হাইলি ভাস্কুলার টিউমার) জন্য সংসার ভেঙে গিয়েছে তরুণীর। প্রাণ বাঁচবে কিনা তা নিয়েও ছিল সংশয়। শেষপর্যন্ত সেই অসাধ্যসাধন করলেন বর্ধমান হাসপাতালের ডাক্তাররা।

ডাক্তাররা জানান, অস্ত্রোপচারের সময় তরুণীর দেহে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৬। অস্ত্রোপচার চলাকালীন শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রায় তিন লিটার রক্ত। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল প্রবল। তবে সব বাধা কাটিয়েই এখন সুস্থতার পথে তিনি। গলা থেকে বের করা টিউমারটির ওজন প্রায় এক কেজি বলেও জানান বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চিকিৎসক ঋতম রায় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে  ভুগছিলেন ওই মহিলা। এই টিউমারের কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ দিন দিন কমছিল। ভর্তির সময় তাঁর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ছিল ৪। অপারেশনের আগে ছ’বোতল রক্ত দেওয়ার পর তা বেড়ে হয় ৬।  হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ এত কম থাকা অবস্থায় রোগীর অস্ত্রোপচার সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। তার উপর অপারেশনের সময় শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এই কারণেও রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। ওঁর ক্ষেত্রে এ সমস্ত বাধা পেরিয়েই এগিয়েছি আমরা। এর আগে এই হাসপাতালে এত বড় মাপের রক্তজালিকার টিউমার অপারেশন হয়নি।”

মালদহের হবিবপুর থানার বিজল গ্রামে বাড়ি ২৫ বছরের ওই তরুণীর। তাঁর পরিবারসূত্রে জানা গেছে, বছর সাতেক আগে তাঁর গলায় ছোট্ট একটি টিউমার হয়েছিল। সেই অবস্থাতেই তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর টিউমারটি আকৃতিতে বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তা বিশাল আকার হয়। যন্ত্রণায় প্রচণ্ড কষ্ট পেতেন তিনি। কোনও কাজকর্ম করতে পারতেন না। খাওয়াদাওয়াও বন্ধ হয়। এই টিউমারের জন্য তাঁর স্বামীও তাঁকে ছেড়ে অন্য বিয়ে করেন।

বাপের বাড়ি ফিরে আসার পর মালদহের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর চিকিৎসা করান বাড়ির লোক। মালদহ হাসপাতালেও দেখানো হয় তাঁকে। সেখানকার চিকিৎসকরা অবশ্য অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নেননি। কিছুদিন আগে ওই তরুণীর দিদি ধান কাটার কাজ করতে আউশগ্রামে আসেন। সেখানকার লোকজনকে বোনের সমস্যার কথা বললে, তাঁরা রোগিণীকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সেইমতো মাস দু’য়েক আগে বোনকে নিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন তিনি। শারীরিক নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর ছ’বোতল রক্ত দেওয়া হয় রোগিণীকে। পুজোর দিন কয়েক আগে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয় তাঁকে। অপারেশনের জন্য একটি টিম তৈরি করা হয়। তাতে ডাঃ ঋতম রায় ছাড়াও ছিলেন বিভাগীয় প্রধান ডাঃ গণেশচন্দ্র গায়েন, ডাঃ অসীম সরকার-সহ অন্য বেশ কয়েকজন। বুধবার তিন ঘণ্টা ধরে অপারেশনের পর তাঁর শরীর থেকে টিউমারটি বাদ দিতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা।

তরুণীর পরিবারের লোকজন জানান, অন্য জায়গার চিকিৎসকরা অপারেশনের ঝুঁকি নিতে চাইছিলেন না। এখানকার ডাক্তাররা তা করে দেখালেন। তাঁদের জন্যই প্রাণ ফিরে পেলেন তাঁদের ঘরের মেয়ে। এখন তাঁর নতুন করে বাঁচার রাস্তা তৈরি করার পালা।

 

Comments are closed.