রবিবার, জানুয়ারি ২৬
TheWall
TheWall

অবশেষে বর্ষা, নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ভাসল প্রায় গোটা দক্ষিণবঙ্গ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া লাগাতার বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত প্রায় গোটা দক্ষিণবঙ্গের জীবনযাত্রা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, বীরভূম, বাঁকুড়ার সর্বত্র এতদিন ছিল বৃষ্টির অপেক্ষা। চাষের জমি ফুটিফাটা। তাই হোমযজ্ঞ, ব্যাঙের বিয়ে বৃষ্টি আনতে কিছুই বাদ রাখেননি জেলার মানুষ। অবশেষে সেই কাঙ্খিত বৃষ্টিতেই এ বার ভাসছে দক্ষিণবঙ্গ। তবে পুরুলিয়ায় এখনও বৃষ্টির খরা। নদিয়াতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম।

গতকাল দুপুরের পর থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর, বারাসাত, বনগাঁ ও বসিরহাট শহর ও তার আশে পাশের অঞ্চল এবং ইছামতীর ধারে টাকি ও বাদুড়িয়া পৌরসভার বেশকিছু ওয়ার্ডে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুন্দরবন অঞ্চলের সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায়। টানা বৃষ্টিতে সুন্দরবনের নদী গুলির জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশকিছু গ্রামে ইতিমধ্যেই জল ঢুকছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একটানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন ডায়মন্ডহারবার পুর এলাকার ১৬ টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড। ১০, ১৩, ১৫ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোথাও এক হাঁটু, আবার কোথাও এক কোমর জল। অনেক গৃহস্থের বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকেছে। পুকুর ও রাস্তা জলে একাকার। নিকাশি নিয়ে অভিযোগে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। বৃষ্টি নেই বৃষ্টি নেই, বাসিন্দাদের এই হাহাকারের মধ্যেই এই আচমকা লাগাতার বৃষ্টিতে অতিবৃষ্টিতে আজ রীতিমতো নাকাল তাঁরা।

একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হাওড়া শহরের বিভিন্ন রাস্তাও। রামরাজাতলা, বেলগাছিয়া, পঞ্চাননতলা সহ আরও কিছু এলাকার রাস্তায় প্রায় হাঁটু সমান জল। দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। সকাল থেকেই ব্যাহত ট্রেন চলাচল। ধীরগতিতে চলছে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব শাখার বিভিন্ন ট্রেন। তবে কোনও ট্রেন বাতিল করা হয়নি।

গতকাল বিকেলে শুরু হয়েছিল বর্ষণ। রাতে ঘন্টা খানেকের বিরতি মাত্র। আবার শনিবার ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। কখনও ঝমঝমিয়ে তো কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আকাশও কালো মেঘে ঢাকা। ফলে বর্ধমানের স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত।

শনিবার সকালে পূর্ববর্ধমানের গলসির বোলপুর গ্রামের মাঠে খরিফের ধান রোয়ার কাজ করার সময় বাজ পড়ে এক খেত মজুরের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম তকবীর শেখ (৪০)। লালবর শেখ নামে অন্য এক খেত মজুরও বাজ পড়ে মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছেন। তাকে পুরষা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভর্তি করা হয়েছে। মৃত ও আহত দু’জনেরই বাড়ি বীরভূমের নলহাটি থানার সাহেবনগর গ্রামে।

বীরভূমের জেলা সদর সিউড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে গতকাল বিকেল থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। তবে আজ সকাল থেকে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বৃষ্টি নামেনি এখনও।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসকে সত্যি করে শুক্রবার থেকে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাঁকুড়াতেও। দীর্ঘ বিরতির পর শ্রাবণের একেবারে শেষ লগ্নে এই বৃষ্টিতে আশার আলো দেখছেন চাষিরা। কিন্তু জলের অভাবে ইতিমধ্যে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তাঁদের। দু’দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে জেলার নদী গুলিতে জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনও তা বিপদসীমার নীচে বলেই জানা গেছে।

দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র বৃষ্টি হলেও পুরুলিয়ায় বৃষ্টি হয়নি তেমন। নদিয়াতেও বৃষ্টি হয়েছে তুলনামূলক কম। সকালের দিকে টানা দু ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, হরিণঘাটায়।

Share.

Comments are closed.