বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮

মহানন্দার ব্যারেজে জালে জড়ানো কুমির মুখো মাছ দেখে ভয় পেয়ে গেলেন মৎস্যজীবীরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পরশুদিন জাল পেতেছিলেন রাঙাপানির গণেশ সরকার। ফাঁসজাল। ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজে। যেমন পাতেন আর কি। শনিবার সকালে এসে জাল গোটাতেই চক্ষু চড়কগাছ। জালে জড়িয়ে আছে এক হাতেরও বেশি লম্বা এক মাছ। দেখতে যেন কুমির। মুখের দাঁত পর্যন্ত একই ছাঁচে ফেলা।

দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর হাঁকডাকে ছুটে আসেন পাশের মৎস্যজীবীরা। জাল ছাড়িয়ে বের করেন মাছটিকে। তবে ততক্ষণে মারা গিয়েছে মাছটি। ভয়ে হোক, আর কেউ তো খায় না এই ভাবনাতেই হোক, মাছটিকে বের করে আবার মহানন্দার ব্যারেজেই ফেলে দেন তাঁরা।

তবে তার আগে ছবি তুলে নেন সে মাছের। আর সেই ছবি দেখেই মৎস্য বিশেষজ্ঞ সুমিত মিত্র জানান, এটি আসলে একটি অ্যালিগেটর গার। মাংসাশী এই মাছ দেশের অনেক জায়গায় পাওয়া গেছে এর আগে। তবে আজ জলপাইগুড়ির মহানন্দা ব্যারেজে যেটি মিলেছে সেই প্রজাতিটি সাধারণত পাওয়া যায় উত্তর ও মধ্য আমেরিকায়। ভয়ঙ্কর এই মাছ জলাশয়ের অন্য মাছকে তো আক্রমণ করেই, রেয়াত করে না মানুষকেও। এদের ডিমও খুব বিষাক্ত।

তিনি বলেন, “অনেকে শখ করে এই মাছ অ্যাকোরিয়ামে রাখেন। তেমন কেউ হয়তো আকৃতিতে বেড়ে যাওয়ায় মাছটিকে মহানন্দা ব্যারেজে ভাসিয়ে দিয়ে গেছেন। না হলে এখানে এমন মাছের আসাটা খুবই অস্বাভাবিক।”

২০১৬ সালের জুন মাসে কলকাতার সুভাষ সরোবরে মিলেছিল অ্যালিগেটর গার। শিবু মণ্ডল নামে এক মৎস্যশিকারীর বড়শিতে ধরা পড়েছিল সেটি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে পুনের পাভান বাঁধে এই মাছের হদিস পেয়ে সতর্কতা জারি করেছিল মৎস্য দফতর।

Comments are closed.