সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

বিদ্যাসাগরের শ্বশুরবাড়িতে বিদ্যাসাগরের শ্রাদ্ধ, তাও আবার অপঘাতে চতুর্থীর!

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : বাঙালি এখন শোকাহত। মুখে মুখে শুধু বিদ্যাসাগর নিয়েই আলোচনা। এমন কী বাদ গেল না শ্রাদ্ধশান্তিও। তাঁর শ্বশুরবাড়ির পরিবার যার আয়োজক ক্ষীরপাইয়ে।

সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যকে হাতিয়ার করেই একসময় ধুঁকতে থাকা বাঙালী হিন্দু সমাজে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। সেই ঝড়ের মুখে খড়কুটোর মতো উড়ে, ভেসে গিয়েছিল অনেক সযত্ন লালিত কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস। নতুন করে ভাবার পরিসর তৈরি করে দিয়ে ১৮৯১ সালের ২৯ শে জুলাই ৭১ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। জীবনের স্বাভাবিক নিয়মে।

একুশ শতকের এগিয়ে থাকা বাংলায় তাঁকে স্মরণের প্রয়োজনীয়তা না ফুরোলেও সে ফুরসত আমাদের মেলে না বড় একটা। তিনিও মূর্তি হয়ে থাকেন। নিশ্চল। স্কুলে, কলেজে, নাগরিক ময়দানে জোরালো আলোর নীচে। বর্ণপরিচয়ের পাতা থেকে বেরিয়ে কখনও চেষ্টাও করেন না আবার সবকিছুকে উড়িয়ে ভাসিয়ে নেওয়ার। কিন্তু তাঁরই নামাঙ্কিত কলেজে তাঁর মূর্তি ভাঙায় এ বার জেগে উঠল বাঙালি। অবাঙালিও। তিনি যে ভারতেরও গর্ব। শোকে, দুঃখে, প্রতিবাদে যে যেমন করে পারেন গর্জে উঠলেন। বাদ রইল না মূর্তি ভাঙায় ফের তাঁর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানও! এবং এ বার অপঘাতে মৃত্যু, তাই চতুর্থীর শ্রাদ্ধ!

ক্ষীরপাইয়ের কাছারিবাজারে শত্রুঘ্ন ভট্টাচার্যের একমাত্র মেয়ে দীনমণি দেবীর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ঘাটালের বীরসিংহ গ্রামের ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সালটা ১৮৩৫। তখন ১৫ বছরের কিশোর ঈশ্বরচন্দ্র। দীনমণির বয়স ৯। সেই ভট্টাচার্য পরিবারেই আজ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হলো বাড়ির জামাইয়ের। বৃহস্পতিবার গোটা দিন অরন্ধন পালনের পর আজ   শুক্রবার পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের। তাঁর শ্যালকের নাতির ছেলে গৌতম ভট্টাচার্য জানালেন, মহামানবের প্রতিকৃতি ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা গভীর দুঃখ পেয়েছেন। ক্ষীরপাই পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর গৌতমবাবুর কথায়, “এ ভাবে ভাঙা হয়েছে তাঁর মূর্তি! তাই আমরা আবার তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করে পারলৌকিক কাজ করছি। এই বঙ্গে যেন বারবার তাঁর আবির্ভাব হয়।”

শ্যালকের নাতির নাতি অয়ন ভট্টাচার্যও শোকে মুহ্যমান। এই যুবকের কথায়, “তাঁর মূর্তি ভাঙাকে আমরা তাঁর মৃত্যু বলেই ধরে নিচ্ছি। তাই তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় এই আয়োজন।”

বিদ্যাসাগর কলেজ প্রাঙ্গনে থাকা মূর্তি ভাঙা পড়লেও এখনও তাঁর এমন মূর্তি রয়েছে রাজ্যের আরও অনেক জায়গায়। হয়তো ধুলি ধূসরিত। হয়তো অবজ্ঞা আর অযত্নের আড়ালে। তাকে কিন্তু মৃত্যু বলা যাবে না।

আরও পড়ুন: 

বাঙালি কতটা খোঁজে বিদ্যাসাগর মশাইকে, জানিয়ে দিল গুগল রিপোর্ট

Comments are closed.