বুধবার, মার্চ ২০

বহুতলের ছাদ থেকে মরণঝাঁপ দশম শ্রেণির ছাত্রীর, মানসিক অবসাদ থেকেই কি আত্মহত্যা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সন্ধেয় উত্তর কলকাতার একটি বহুতলের পিছনের দিকে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে এক কিশোরীর দেহ। তার পর থেকেই কার্যত থমথমে যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউয়ের ওই আবাসন। অনিকশা রায় নামে বছর পনেরোর ওই কিশোরীর মুঠোবন্দি চিরকুটের লেখা থেকে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান এটা আত্মহত্যারই ঘটনা। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কলকাতার একটি স্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ত অনিকশা।  বাড়িও উত্তর কলকাতাতেই।  যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউয়ের ওই আবাসনে এক গৃহশিক্ষিকার কাছে বিজ্ঞান পড়তে যেত সে। বুধবারও গিয়েছিল। সন্ধে ৬টা নাগাদ ছ’তলা ওই বাড়ির ছাদ থেকে সে নীচে ঝাঁপ দেয় বলেই ধারণা। পুলিশ জানিয়েছে, অপরূপা ভট্টাচার্য নামে ওই গৃহশিক্ষিকা জানিয়েছেন, বুধবার অনিকশার ক্লাস থাকত না। তাও কেন সে এসেছিল জানা যায়নি। এমনকি শিক্ষিকার সঙ্গে দেখাও করেনি সে।

ছ’তলা ওই বহুতলের বেশিরভাগ ফ্ল্যাটই বন্ধ। ছাদে নির্মাণ কাজ চলছে। তাই ছাদের দরজা সবসময়ই খোলা থাকে। সিঁড়িতে আলো নেই, বাড়ির চারপাশ বেশ অন্ধকার। বাইরের কারও সহজেই আবাসনে ঢুকে ছাদে চলে যাওয়াটা মোটেই কঠিন নয়। পুলিশের অনুমান, বুধবার সেই ভাবেই চুপিচুপি বাড়িতে ঢুকেছিল অনিকশা। তারপর সোজা চলে যায় ছাদে। সেখান থেকে পিছন দিকের সিমেন্টে চাতালে ঝাঁপ মারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বড়তলা থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ওই গৃহশিক্ষিকা ও এলাকার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কিশোরীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলা চলছে। জানা গিয়েছে, নিয়মিত ওই গৃহশিক্ষিকার ফ্ল্যাটে পড়তে আসত অনিকশা। বাড়ির হাল হকিকত তাই ভালোই জানা ছিল তার। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই ওই দিন বাড়িতে ঢুকেছিল বলে অনুমান পুলিশের।  ঝাঁপানোর আগে সুইসাইড নোটও লিখেছে সে। সেটা পড়ে গোটা বিষয়টা স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ধারণা, পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে কিশোরী। তার পরিবার জানিয়েছে, মানসিক অবসাদেও নাকি ভুগছিল সে। অনেক বেশি চুপচাপ থাকত। বিশেষ কথা বলতো না। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Shares

Comments are closed.