রবিবার, মার্চ ২৪

প্রথম দর্শনেই শরীরে ঘনিষ্ঠ হলে নাকি মন বুঝতে সুবিধে হয়, জানাচ্ছে গবেষণা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে প্রথম ডেট মানেই একরাশ মনের কথা আদান প্রদান। হাত ধরে চোখে চোখ। কখনও হালকা ঠোঁটের ছোঁয়াও মন্দ নয়। তাই বলে যৌনতা?  নৈব নৈব চ! সম্পর্কের গোড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বুক কাঁপে অনেকেরই। মনে যতই উত্তেজনা থাক আর মুখে যতই অস্ফুট বুলি থাক। একটু বেশি সাহসী যুগলেরা বড়জোর ঠোঁটের আদানপ্রদানে যান। তার বেশি নয়। তবে প্রথম ডেটে যৌন মিলন নাকি মোটেও খারাপ নয়। বরং সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হতেই বলছেন গবেষকরা। ইজরায়েলের হার্জলিয়া শহরের গবেষণা-বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টার (IDC)’-এর বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন রিপোর্ট পেশ করেছেন।

প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ মানেই শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হতে হবে এমন নিদানে আপত্তি থাকতে পারে অনেকেরই। সুফলের থেকে বরং কুফলের লম্বা তালিকাই বার করবেন বহু মানুষ। গবেষণার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর তর্ক, বিতর্কও হয়েছে অনেক। বিজ্ঞানীদের এমন কথাকে বিতর্কিত বলেও মন্তব্য করেছে নানা মহল। কিন্তু, ইজরায়েলের গবেষকরা বলছেন, মনের সঙ্গে আসলে শরীরের সম্পর্কটা বেশ মাখোমাখোই। সম্পর্কের শুরুতেই যদি শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া যায়, তাতে নাকি মনের ঘনিষ্ঠতাও বেশ কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যায়। ভালোবাসার গভীরতা কতটা সেটা বুঝতেও নাকি সুবিধা হয় প্রেমিক যুগলের।

সুন্দর দাম্পত্য জীবনের মাপকাঠিও অনেকাংশে সুস্থ ও নিরাপদ যৌন জীবনের উপর নির্ভর করে। আজকালকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে ব্যস্ততা পুরোপুরি ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে, দম্পতিদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণের অনীহা। কাজের চাপ, প্রতিযোগিতার দৌড়, স্ট্রেস, তার থেকে মানসিক অবসাদ সব কিছুই যৌন মিলনের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। সেই সঙ্গে নানা রকম রোগের প্রকোপ তো রয়েছেই।

গবেষকরা বলছেন, অনেক সময়েই নিজের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা লুকিয়ে সম্পর্কে জড়ান অনেকে। যেটা ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের পর পরই কাউন্সিলরের কাছে ছুটেছেন অনেকে। আবার মনোবিজ্ঞানীর দ্বারস্থ হতেও দেখা গেছে অনেক যুগলকেই। অভিযোগ বা অনুযোগের ধরনও অনেকটাই এক। বিয়ের আগে প্রেম পর্ব চলার সময় যে ছিল অনেক বেশি রোম্যান্টিক, বিয়ের পরে বিছানায় সে অনেকটাই আলাদা। তার মানেই কি, দু’জনের মধ্যে ভাঙন ধরাচ্ছে অন্য সম্পর্ক, নাকি ভালোবাসা শুরুর আগেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এমন কিছু যে সবসময় হয় তা নয়। আসলে সঙ্গমের সময় সব মানুষের চাহিদা একরকমের হয় না। তাই সেটা আগে থেকে জেনে বুঝে নেওয়াই ভালো।

Shares

Comments are closed.