ধর্মের টুকরো সীমানা হয় না, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘুর বিচার হবে গোটা ভারতের নিরিখে: সুপ্রিম কোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচার হবে সারা দেশের পরিপ্রেক্ষিতে। গোটা ভারতের নিরিখে এই বিচার হবে। কোন ধর্ম কোথায় বেশি বা কম, তা নিয়ে আলাদা আলাদা টুকরো অনুযায়ী কোনও বিচার হবে না। ধর্মের কোনও সীমান্ত হয় না। মঙ্গলবার একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

সম্প্রতি এক বিজেপি নেতা অশ্বিনীকুমার উপাধ্যায় আদালতে জনস্বার্থ মামলা রুজু করে আবেদন করেছিলেন, দেশের মধ্যে আটটি রাজ্যে হিন্দু ধর্মের মানুষ সংখ্যালঘু। তাঁদের সংখ্যালঘু স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ওই নেতা এক জন বিজেপি নেতাও। যদিও এই নেতার দায়ের করা পিটিশন মেনে নেয়নি খোদ কেন্দ্রই। কেন্দ্রের নীতিতে সংখ্যালঘু সুধুই মুসলমান, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ ও পার্সিরা।

কিন্তু অশ্বিনীকুমারের বক্তব্য, সময় বদলেছে, দেশের জনসংখ্যাও বদলেছে, ধর্মীয় মানুষের সংখ্যা বদলেছে অবধারিত ভাবে। তাই এই নীতিতে বদল আনা দরকার। ২০১১ সালের একটি পরিসংখ্যান পেশ করে ওই বিজেপি নেতা দাবি করেন, আটটি রাজ্যে হিন্দুদের শতকরা উপস্থিতি অনেক কম।

সেই রাজ্যগুলি হল, পঞ্জাব (৩৮.৪% হিন্দু), মণিপুর (৩১.৩৯% হিন্দু), অরুণাচল প্রদেশ (২৯% হিন্দু), জম্মু ও কাশ্মীর (২৮.৪৪% হিন্দু), মেঘালয় (১১.৫৩% হিন্দু), নাগাল্যান্ড (৮.৭৫% হিন্দু), মিজোরাম (২.৭৫% হিন্দু), লাক্ষাদ্বীপ (২.৫% হিন্দু)। সুতরাং, এই সমস্ত রাজ্যে হিন্দুদের সংখ্যালঘু বলে ঘোষণা করা হোক। সেই সঙ্গে তাঁদের শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বাড়তি অধিকার দেওয়া হোক। অধিকার দেওয়া হোক বাসস্থানেরও। এমনটাই দাবি করে মামলা রুজু করেছিলেন অশ্বিনীকুমার নামের ওই বিজেপি নেতা।

এই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দেয়, ধর্মের কোনও সীমানা হয় না। তাই সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিবেচনা হবে সারা দেশের সব ধর্মের মানুষের নিরিখে। রাজনীতির ভিত্তিতে ধর্মের জন্য টুকরো টুকরো কোনও বিভাজন হবে না। সে ক্ষেত্রে লাক্ষাদ্বীপে হোক বা অন্য কোথাও, যে ধর্মের মানুষই বেশি থাকুন, আর হিন্দুরা যতই কম থাকুন, তা হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরাও থাকবেন। কারণ এই গরিষ্ঠতা বিবেচ্য হবে গোটা দেশের ভিত্তিতে। আলাদা কোনও রাজ্যের ভিত্তিতে নয়।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (ক্যাব) নিয়ে যখন সাারা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল, বিক্ষোভের আঁচে পুড়ছে ছাত্রসমাজ থেকে সাধারণ মানুষ, তখন সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সকলে।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More