বুধবার, মার্চ ২০

জরুরি অবস্থা জারি বেআইনি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা ১৬ টি রাজ্যের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফের আমেরিকায় জরুরি অবস্থা জারি করতে চান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করল আমেরিকার ১৬ টি প্রদেশ। তাদের বক্তব্য, জরুরি অবস্থা জারি হলে সংবিধান লঙ্ঘন করা হবে।

জরুরি অবস্থা জারি হলে সরকারি তহবিলের টাকা পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। বহু সরকারি কর্মীর বেতন আটকে যায়। সেজন্যই জরুরি অবস্থা জারির বিরোধিতা করছে ১৬ টি অঙ্গরাজ্য। তারা মামলা করেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মেক্সিকো সীমান্তে ২৩০ মাইল জুড়ে পাঁচিল তৈরি করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে দু’বছর কেটে গেলেও বিরোধীদের আপত্তিতে পাঁচিল তৈরি করতে পারেননি। ট্রাম্প চান, করদাতাদের অর্থের একটি অংশ দিয়ে বিশেষ তহবিল তৈরি হোক। সেই অর্থে তৈরি হবে পাঁচিল। অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের দাবি, প্রেসিডেন্ট বড্ড বাড়াবাড়ি করছেন। তাঁকে এবার থামাতেই হবে।

ট্রাম্প রোজ গার্ডেনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করেন, কেন মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল দেওয়া দরকার। তাঁর দাবি, সীমান্তে সম্পূর্ণ অরাজক অবস্থা রয়েছে। পাঁচিল না দিয়ে উপায় নেই। কিন্তু তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, ট্রাম্প নির্দিষ্ট যুক্তি-তথ্য দিয়ে বোঝাতে পারেননি, মেক্সিকো সীমান্তে কেন পাঁচিল দেওয়া দরকার। তিনি অনেকটা নির্বাচনী প্রচারের ঢং-এ পাঁচিল বানানোর পক্ষে বক্তব্য পেশ করছেন। বার বার বলছেন, আমাদের দেশ আক্রান্ত হচ্ছে।

তাঁর কথায়, আমাদের শত্রুরা ওই সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক ঢোকাচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে মানুষ পাচারকারীরা আছে, সব রকমের অপরাধী আছে। ওই সীমান্তে পাঁচিল না দিলে তাদের আটকানো সম্ভব নয়।

যে প্রদেশগুলি ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের মধ্যে আছে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়ার, হাওয়াই, ইলিনয়েস, মেইনে, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, মিনাসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, অরেগন এবং ভার্জিনিয়া। তারা চায়, প্রেসিডেন্ট যাতে জরুরি অবস্থা না জারি করতে না পারেন, সেজন্য কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করুক।

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বেসেরা আগেই ঘোষণা করেছিলেন, জরুরি অবস্থা জারি হলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে। আমরা নানা সামরিক প্রকল্প, বিপর্যয় মোকাবিলা ও অন্যান্য কাজে অর্থ পাব না। রিপাবলিকান সেনেটরদের অনেকে বলেছেন, ট্রাম্প যা সুরু করেছেন, দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে।

Shares

Comments are closed.