শনিবার, মার্চ ২৩

পুলওয়ামা ফের জাগালো বারামুলার শোক, শোকের জলে ভাসছেন জয়জিতের বাবা মা

বিমল বসু, উত্তর ২৪ পরগনা :  শোক শুকায়নি। নেভেনি আগুনও। তিন বছর ধরে চাপা দেওয়া আছে শুধু। পুলওয়ামা এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে গেল সেই ঢাকনাকে। ফের বাঁধ ভাঙল চোখের জলের।

২০১৬ সালের ১৭ অগস্ট। খবর এসেছিল একমাত্র ছেলে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে জঙ্গিদের গুলিতে। রাতারাতি সব স্বপ্ন, রঙ ফিকে হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকেই হিঙ্গলগঞ্জের বাড়িতে জীবনটাকে শুধু বয়ে বেড়াচ্ছেন শহিদ জয়জিৎ ঘোষের মা বাবা।

জয়জিৎ তখন ছিলেন ৩২ এর যুবক। বাড়িতে মা বাবা স্ত্রী ও বছর দুয়েকের এক কন্যা। কাশ্মীরের বারামুলায় কর্মরত ছিলেন সেনা জওয়ান জয়জিৎ। সীমান্তে নজরদারি চালানোর সময়েই জঙ্গিদের বুলেট ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল তাঁকে।

হিঙ্গলগঞ্জের বাড়িতে এখন একাকী দিন কাটে বাবা গোবিন্দ ও মা লক্ষ্মী ঘোষের। বিয়ে হয়ে গিয়েছে দুই মেয়ের। ছেলের বউ ছোট্ট নাতনিকে নিয়ে থাকেন হাসনাবাদে বাপের বাড়িতে। পুলওয়ামার ঘটনা গতকালই কানে এসেছে বৃদ্ধ দম্পতির। তারপর থেকেই পুত্রশোক গ্রাস করেছে ফের। অনবরত কেঁদে চলেছেন দুজন। গতকাল থেকেই আর বাড়ির বাইরে বের হননি কেউ।

গোবিন্দবাবুর কথায়, “আমার ছেলেটাও তো এ ভাবেই হারিয়ে গিয়েছিল একদিন। কত বাবা মায়ের বুক খালি হল আবার। ভগবান যেন ওদের ক্ষমা না করে।” চোখের জল বাঁধ মানছিল না লক্ষ্মীদেবীর চোখে। বললেন, “পুত্রশোকের যন্ত্রণা তো চেপেই রাখি, জানেন?  কিন্তু বারবার এমন ঘটনা নতুন করে যে সব মনে করিয়ে দেয়। ছেলের মুখটা বড্ড মনে পড়ছে। যারা চলে গেল তাঁরাও তো আমার ছেলেরই মতো।”

আজ উনুনে আঁচ পড়েনি শহিদ জয়জিৎ ঘোষের হিঙ্গলগঞ্জের বাড়িতে। গোবিন্দ আর লক্ষ্মীর চোখের জল মিশে গিয়েছে পুলওয়ামার শহিদ জওয়ানদের পরিবারের চোখের জলে।

Shares

Comments are closed.