রবিবার, মার্চ ২৪

শরীরচর্চার সময় নেই? ওবেসিটি ও স্ট্রেসের মোকাবিলা করবে গরম জলে স্নান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঋতু পরিবর্তনকে নিজের শারীরবৃত্তীয় চক্রে খাপ খাইয়ে নিতে একটু সময় লাগে। তাই এই সময়েই অসুখ ঢুকে পড়ে ঢিলেঢালা সুরক্ষার ফাঁক গলে। তাই সচেতন হওয়ার সেরা সময় এটাই। সুস্থ থাকতে কিছু সাধারণ নিয়ম মানাই যথেষ্ট বলে মনে করছেন গবেষকরা। তা ছাড়া সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে হজমের সমস্যা, বাড়তি ওজন আর স্ট্রেস বাঁচিয়ে ঝকঝকে থাকতে কী করণীয় তার কিছু টিপস দিয়েছেন ব্রিটেনের লাফবোরো ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

আপনি কি সকালে স্নান করার সময় পান না? দিনের শেষে বাড়ি ফিরে ভাল করে সময় নিয়ে স্নান করাই আপনার অভ্যাস? গবেষকরা জানালেন, স্নানের সময়টা যেমন জরুরি তেমনই গুরুত্বপূর্ণ জনের তাপমাত্রাও। গরম জলে স্নান করার পর শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। যার ফলে ক্লান্তি দূর হয় ও ঘুম আসে। পেশীর শিথিলতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর গরম জল।

‘হট ওয়াটার বাথ’ তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটা কার্যকরী থেরাপি। লাফবোরো ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিসটফ অ্যান্ড্রেস জানিয়েছেন, শরীরের যে কোনও প্রদাহজনিত রোগকে স্তিমিত করে গরম জল। হজম শক্তিও বাড়ায়। ওজন বৃদ্ধি বা ওবেসিটির সমস্যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক। যে কোনও বয়সের মহিলা ও পুরুষ এই বাড়তি ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। ব্যস্ত জীবনে যেখানে নিয়মিত শরীরচর্চার সুযোগ কম, সেখানে বিকল্প হিসেবে ‘হট ওয়াটার বাথ’-এর কোনও তুলনাই নেই।

‘অ্যাপ্লয়েড ফিজিওলজি’ নামক বিজ্ঞানপত্রিকায় এই গবেষণার ফল প্রথম প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শরীরচর্চার সময় আমাদের শরীর থেকে ইলফ্ল্যামেটারি রাসায়নিক আইএল-৬ (IL-6) নির্গত হয়, যা শরীরের প্রদাহরোধী উপাদানগুলিকে সক্রিয় করে। ফলে শরীরে জমতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক, টক্সিন পদার্থ বাইরে বার হয়ে যায়।  গরম জলে স্নানও তেমনই কাজ করে। তবে স্নানের সময় জলের তাপমাত্রা রাখতে হবে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি অর্থাৎ প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। স্নানের পরে ঘরের তাপমাত্রাও রাখতে হবে স্বাভাবিক।

পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ও মহিলার উপর এই পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রতিবার গরম জলে স্নানের পর এঁদের অনেক তরতাজা লেগেছে। মেপে দেখা গেছে, নিয়মিত ‘হট ওয়াটার বাথ’-এর পর এই মহিলা ও পুরুষদের রক্তচাপ রয়েছে স্বাভাবিক, বিপাকের ক্ষমতা বেড়েছে অনেকটাই।

এখন দেখে নিন গরম জলে স্নানের কী কী সুবিধা রয়েছে—

  • পেশীর ক্লান্তি দূর হয়, স্ট্রেস কমে
  • শরীর থেকে অতিরিক্ত তেল, ধুলো, ময়লা বার হয়ে যায়। ত্বক ও চুল উজ্জ্বল হয়।
  • যাঁরা ইনসমনিয়ায় ভুগছেন তাঁদের জন্য জরুরি গরম জলে স্নান। কারণ গরম জলে স্নানের পর শরীরে তাপমাত্রা কমে যায়, যার ফলে ক্লান্তি দূর হয় এবং ঘুম আসে।
  • গবেষণা বলছে, হৃদরোগ দূর করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। গরম জলে স্নান শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, হার্ট ভাল রাখে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন গরম জলে স্নান হার্টের যে কোনও রোগ দূর করে।
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে গরম জল।
  • বিপাকের হার বাড়ায়, ফলে মেদ ঝরে চটপট।
Shares

Comments are closed.