বেলিয়াতোড়ের মোড় এলেই হাতছানি দেবে মেচা সন্দেশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মৃন্ময় পান, বেলিয়াতোড় : নামে সন্দেশ। কিন্তু শুধু ক্ষীর-ছানা নয়। আরও অনেক কিছুকে মিলিয়ে নিয়ে তবেই বেলিয়াতোড়ের ডেলিকেসি মেচা সন্দেশ।

ভরা বর্ষায় বাবা ধর্মদাসের মেলা বসতো। সেখানে বিক্রি হতো গুড়ের লাড্ডু। খুব কদর ছিল তার। কিন্তু ভেজা আবহাওয়ায় যে খারাপ হয়ে যায় গুড়ের পাক। কী করা যায়?

উপায় খুঁজতে খুঁজতেই না কি একদিন…….।

চার পুরুষ ধরে মেচা সন্দেশ তৈরি করে বিক্রি করেন ভগবান দাস মোদক। উপায় খুঁজতে খুঁজতে কীভাবে একদিন তাঁর দাদুর বাবা গিরিশচন্দ্র মোদক তৈরি করে ফেললেন মেচা সন্দেশ, গল্প শোনাচ্ছিলেন তারই।

দুর্গাপুর থেকে বাঁকুড়ার পথ ধরেছেন। বেলিয়াতোড় মোড় এলেই মেচা সন্দেশের হাতছানি। সার সার দোকানে শোকেসের মাথায় স্তূপাকৃতি মেচা সন্দেশই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে আপনি বেলিয়াতোড় মোড়ে চলে এসেছেন। আবার উল্টোদিকে মেচা সন্দেশের সারি দোকান বেলিয়াতোড় মোড় চিনিয়ে দেবে আপনাকে। এই সব দোকানই তাঁদের জ্ঞাতিদের, জানালেন ভগবানবাবু। শোনালেন সন্দেশের রূপকথাও।

ছানা বা ক্ষীর নয়, প্রথমে ছোলার ডালের বেসন বানিয়ে সেই বেসনের গাঠিয়া তৈরি করেন তাঁরা। তবে নুন না দিয়ে। সেই বেসনের গাঠিয়া গুঁড়ো করে চিনি আর ক্ষীর দিয়ে পাক দেওয়া হয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে তার সঙ্গে মেশানো হয় দেশি গাওয়া ঘি, এলাচ। তারপর লাড্ডুর মতো করে পাকানো হয়। সেই লাড্ডু কড়া মোটা চিনির রসে ডুবিয়ে নামিয়ে রাখা হয় শাল পাতায়। ব্যাস, তৈরি মেচা সন্দেশ।

এই যে সবার শেষে কড়া রসে ফেলা, তা যেমন সৌন্দর্য্য বাড়াতে, তেমনই বেশিদিন ধরে রেখে খেতেও সাহায্য করে। তবে এর জন্য যে স্বাদের বিশেষ হেরফের হয় তেমনটা নয়।

কাছেই গ্রাম। সেখান থেকেই আসে দুধের জোগান। ক্ষীর তৈরি হয় এখানেই। আবার ছোলার ডাল কিনে এনে বেসন তৈরি, ও বেসন থেকে গাঠিয়া তৈরি, তাও এখানেই। কাঁচামাল ঠিক না হলে কি আর সন্দেশের মনভোলানো স্বাদ হয়? তাই সাবধানী মিষ্টি ব্যবসায়ী ভগবানদাস মোদক।

মন যে সত্যিই ভোলে তা তো দেখতেই পাচ্ছেন মেচা সন্দেশ বিক্রেতারা। যুগ এগোচ্ছে। তাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মেচা সন্দেশের বিক্রি। সেই প্রজন্ম, এই প্রজন্ম— মেচায় অবগাহনের তৃপ্তিতে তফাত নেই।

সবশেষে ভগবানবাবু জানিয়ে দিলেন, “একবার কিনে নিয়ে যান, দশ দিন ধরে খান। ফ্রিজে রাখার দরকার নেই। খামোকা মিস করবেন মুখে দিলে গলে যাওয়া।”

একটা কিনে খেলে দাম সাত টাকা। সবাইকে নিয়ে যদি খেতে চান  তবে ১৭০ টাকায় পেয়ে যাবেন এক কিলো মেচা সন্দেশ।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More