মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

ভোটাভুটিতে নৈহাটি পুরসভা ফের তৃণমূলের দখলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা : নৈহাটি পুরবোর্ড পুনর্দখল করল তৃণমূল। আজ জেলাশাসকের দফতরে বিজেপির আনা অনাস্থার বিরুদ্ধে ভোট দিলেন তৃণমূলের ২৪ জন কাউন্সিলর। সভায় আসেননি বিজেপির সাত কাউন্সিলর। তাই ২৪-০ ফলে ফের পুরবোর্ডের দখল নিল রাজ্যের শাসকদল।

অগস্ট মাসে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে অর্জুন সিং সাংসদ নির্বাচিত হওয়ায় পরেই ৩১ আসন বিশিষ্ট নৈহাটি পুরসভার ২৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেন। এরপরেই অনাস্থা আনে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতেই সরকার নৈহাটি পুরসভায় প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ নিতেই ‌হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে বিজেপি। সেই মামলা চলাকালীনই প্রথমে ১১ জন ও পরে ১০ জন কাউন্সিলর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়।

এরপরেই ২৫ জন কাউন্সিলরের সই নিয়ে এসডিওর কাছে বোর্ড গঠনের আবেদন জমা দেয় তৃণমূল। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু হাইকোর্টের বিচারাধীন, তাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মহকুমা আধিকারিক। জেলাশাসকের দফতরে কড়া নিরাপত্তায় বিজেপির আনা অনাস্থা নিয়ে ভোটাভুটির নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। বুধবার জেলাশাসকের দফতরে অনাস্থার বিপক্ষে ২৪ জন ভোট দেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী।

ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত ছিলেন ৭ বিজেপি কাউন্সিলরই। হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়নি বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। জেলাশাসক অবশ্য দাবি করেন, পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা্ই করা হয়েছিল।

লোকসভা ভোটের পর থেকে উত্তর চব্বিশ পরগনার একের পর এক পুরসভা লাইন দিয়ে দখল করে গেরুয়া শিবির। কিন্তু মাস দুই যেতে না যেতেই বল নিজেদের কোর্টে নিতে থাকে তৃণমূল। হাতছাড়া হওয়া পুরসভাগুলি পুনর্দখল করে শাসকদল। বনগাঁ, হালিশহর পুরসভা নিয়ে মামলা করেও তা ধরে রাখতে পারেনি বিজেপি। পদ্মশিবিরে যাওয়া কাউন্সিলররা ফিরতে শুরু করেন পুরনো দলে। এমনকী মুকুল রায়ের খাস তালুক কাঁচরাপাড়া পুরসভাও হাতছাড়া হয় বিজেপি-র। পুজোর আগে গারুলিয়া পুরসভা থেকেও সুনীল সিংকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, পুজোর পরেই সব পুরসভা তৃণমূলের হাতে চলে আসবে। সেটাই যেন সত্যি হল এ দিন।

যদিও বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভয় দেখিয়ে এ সব করছে। এ ভাবে হয়তো বোর্ড দখল করা যায়, কিন্তু মানুষের মনের দখল নেওয়া যায় না।

Comments are closed.