রবিবার, মার্চ ২৪

মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ঘুমিয়ে পড়বেন কী ভাবে?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর উনত্রিশের ঝকঝকে তরুণ শোভন। মিডিয়ায় চাকরির সুবাদে সারাদিনই কাজের পাহাড়। তার উপর নাইট ডিউটি। তবে, শোভনের একটা আশ্চর্য গুণ হল যখন তখন ঘুমিয়ে নিয়ে শরীরকে বেশ চাঙ্গা রাখতে পারে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম, সেটাও বেশ গভীর। তার পর একটা হাই তুলে ফের কাজে বসা। মুখে ক্লান্তির ছাপ একেবারে গায়েব। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘুমটা একটা ট্রিক। সেটা শুধু শোভন নয়, ট্রাই করে দেখতে পারেন যে কেউ। কাজের ফাঁকে ছোট্ট বিরতিও হবে আবার ঘুমও হবে। শরীরও থাকবে ঝরঝরে।

সময় মাত্র ৬০ সেকেন্ড। গুণতি শুরুর মাঝেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন একেবারে নাক ডেকে। এই উপায় বাতলেছেন মার্কিন গবেষকরা। হার্ভার্ডের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু ওয়েল এই উপায় থুড়ি পদ্ধতির উদ্ভাবক। কাজটা আর কিছুই নয়, ভারতীয় যোগের ভাষায় একটা ছোট্ট প্রাণায়ম। মার্কিন গবেষকরা যার নাম দিয়েছেন ৪-৭-৮ ট্রিক (‘4-7-8’ breathing trick)।

নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাসের একটা বিশেষ ব্যায়াম এটি।  পদ্ধতি খুবই সহজ।  চার সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিতে হবে, পরের সাত সেকেন্ড সেই শ্বাস ধরে রাখতে হবে নিজেকে এবং শেষ আট সেকেন্ড সেই ধরে রাখা শ্বাসই মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে বার করে দিতে হবে। এই গোটা প্রক্রিয়া করে যেতে হবে ৬০ সেকেন্ড ধরে।  তাহলেই কেল্লাফতে! বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই পদ্ধতি যদি ঠিকঠাক ভাবে করা যায়, তাহলে মাঝপথেই দেখা যাবে ঘুমের ঘোরে চোখ বেশ ঢুলুঢুলু হয়ে আসছে।  হৃদস্পন্দনের গতিও ধীর হয়ে যাবে, শেষে দু’চোখে নেমে আসবে নিশ্ছিদ্র ঘুম।

আজকের লাইফস্টাইলে ঘুম জিনিসটা অনেকটা বাড়তি আসবাবের মতোই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে বর্তমান প্রজন্ম।  দিনে অফিস তো রাতে পার্টি।  তা ছাড়া রাত জেগে মোবাইল, ল্যাপটপ তো রয়েছেই।  ভোরের দিকে কিছুটা ঘুমিয়ে আবার রোজকার ব্যস্ততা।  ঘুমের সময় কই? তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকেই নিতে হবে ছোট্ট বিরতি।  বিশেষজ্ঞদের মতে শরীর–মন–মেজাজ সব ঠিক রাখতে দিনে ৬–৮ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুম দরকার৷ না হলে কম ঘুমের প্রভাব পড়ে শরীর জুড়ে৷ শরীর–স্বাস্থ্য–মন, সব ছন্নছাড়া হয়ে যায়৷ স্ট্রেস হরমোনেরা শরীরে পিকনিক শুরু করে। যার হাত ধরে নানা রোগ ডালপালা মেলে।

আরও পড়ুন : এলাহাবাদ হলো প্রয়াগরাজ, সিমলা কি তবে এ বার শ্যামলা !

হৃগরোগের সম্ভাবনা যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে রক্তচাপ। যাঁরা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক কম ঘুমোন তাঁদের সাধারণ জ্বর–সর্দি–কাশি বেশি হয়৷ যার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া৷দিনের পর দিন কম ঘুমোলে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে শরীরের ক্যালোরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়৷ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ বেড়ে মনমেজাজ খারাপ হয়।

তাই কাজও দরকার, আবার ঘুমও। যাঁদের ঘুম কম বা ঘুমনোর সময়ের অভাব, তাঁরা এই পদ্ধতির আশ্রয় নিতেই পারেন। একবার ট্রাই করেই দেখুন না। মাত্র ৬০ সেকেন্ড, তারপর ঘুমের দেশে পাড়ি দেবেন আপনিও।

Shares

Comments are closed.