রক্ত দিয়ে স্নাতক হলেন সুব্রত, এ বার আরও এগোতে হবে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পড়াশোনা করে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দু চোখে। কিন্তু ছোট থেকে বারেবারেই বাধার পাঁচিল তুলেছে দারিদ্র। চূড়ান্ত অর্থকষ্টে তলিয়ে যেতে যেতেও শেষমেশ আবার ভেসে উঠেছেন সুব্রত দাস। এরজন্য তিনি কৃতজ্ঞ সিউড়ি শহরের রক্তের দালালচক্রের কাছে।

যতবার থমকে যেতে বসেছে পড়াশোনা, ততবারই তাদের কাছে গিয়ে নিজের গায়ের রক্ত বিক্রি করেছেন। কখনও ছশো টাকায়, কখনও সাতশো টাকায়। তখনকার মতো উতরে গিয়েছেন। এ ভাবেই ইতিহাসে অনার্স নিয়ে স্নাতক হওয়া। এ বার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ তে ভর্তি হতে গিয়ে আবার ঠেকে গিয়েছিলেন সিউড়ি দু’নম্বর ব্লকের গাংটে গ্রামের সুব্রত। মেরিট লিস্টে চার নম্বরে নাম। ভর্তি হতে লাগবে ৬ হাজার টাকা। নিজের টিউশন পড়ানো টাকা থেকে মেরেকেটে জোগাড় হয় চার হাজার। বাকিটা?

আবারও রক্ত বিক্রির কথা ভেবে ফেলেছিলেন। কিন্তু এ বার ভাগ্য সদয়। কোনওভাবে সে খবর পৌঁছোয় বীরভূম জেলা পরিষদে। আজ অতিরিক্ত জেলা শাসক বীরভূম জেলা পরিষদ দিপ্তেন্দু বেরা সুব্রতর হাতে তুলে দেন দু হাজার টাকা। আজই ছিল বিশ্বভারতীতে মাস্টারডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার শেষদিন।

সুব্রতর বাবা মোহন দাস গ্রামে গ্রামে সাইকেলে করে সবজি বিক্রি করেন। বাড়িতেই থাকেন মা। যা রোজগার হয় তাতে তিনজনের সংসারে কোনও রকমে খাবার জোটে। পরিবারের গ্রাসাচ্ছাদন আর নিজের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র পড়ানোও শুরু করেছিলেন সুব্রত। কিন্তু তাতে রোজগার আর কতটুকু!

শত দরকার থাকলেও বাবার কাছে কখনও কলেজে ভর্তির টাকা বা পরীক্ষার ফি চাইতে পারেননি তিনি। একেবারে বেকায়দায় পড়ে, পরিবারের কাউকে জানতে না দিয়েই বেশ কয়েকবার পড়াশোনা চালানোর জন্য রক্ত বিক্রি করেছেন তিনি। বীরভূম মহাবিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সাম্মানিক স্নাতক হওয়ার পর আরও এগোনোর জন্য এ বারও ভেবে নিয়েছিলেন সেই চেনা রাস্তা। তাঁর কথায়, ‘‘অভাবের সংসার। তাই বাধ্য হয়েই মাঝেমধ্যে পড়াশোনার জন্য রক্ত বিক্রি করতাম। এটাও বুঝতাম ঠিক করছি না আমি। এ বার জেলা প্রশাসন যে ভাবে সাহায্য করেছে তাদের ধন্যবাদ। পড়াশোনা আমাকে শিখতেই হবে।”

আর বাবা মোহনবাবু বলেন, ‘‘ছেলে এ ভাবে রক্ত বিক্রি করে পড়াশোনা করেছে কোনও দিন জানতে পারিনি। তবে রক্ত তো, বিক্রি না করলেই ভালো হতো।’’

ছেলেকে ঘিরে স্বপ্ন তাঁরও দু চোখে। ‘‘যদি দাঁড়াতে পারে ও। এত জেদ। পারবে মনে হয়।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More