শুক্রবার, মে ২৪

জাতীয় সড়কে পরপর দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু মুর্শিদাবাদে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ : বৃহস্পতিবার জেলায় তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক মহিলা কনস্টেবল সহ পাঁচ জনের। তিনটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর। সাগরদিঘি থানার রতনপুর, নবগ্রাম থানার মেহেদিপুর এবং বহরমপুর থানার চুয়াপুরে তিনটি দুর্ঘটনার পরেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনটি ক্ষেত্রেই ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার সকালে সাগরদিঘি থানার রতনপুরে একটি বালি বোঝাই লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু’জনকে ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃত দুইজনের নাম তৈয়ব আলি (৩৫) এবং জাহাঙ্গির আলি (৩০)। তৈয়ব আলির বাড়ি সাগরদিঘি থানার রতনপুরে। জাহাঙ্গির আলি ওই থানারই বেলসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার পরে স্থানীয় মানুষজন ছুটে এসে লরির চালক ও খালাসিকে ধরে ফেলে পুলিসকে খবর দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে বেশ কিছুক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। পরে পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ১২ চাকার লরিটি অপ্রাপ্তবয়স্ক খালাসি চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা।

সকাল ৯টা নাগাদ নবগ্রাম থানার মেহেদিপুর মোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে মোটরবাইকে করে যাচ্ছিলেন ইন্দ্রজিত দত্ত (৩২) এবং রঘুনাথগঞ্জ থানায় কর্মরত মহিলা কনস্টেবল রুম্পা বৈরাগ্য (২৪)। রঘুনাথগঞ্জের দিকেই যাচ্ছিলেন তাঁরা। মেহেদিপুর মোড়ে একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গেলে সেই ট্রাকেই ধাক্কা লেগে জাতীয় সড়কের উপরে পড়ে যান দুজনে। এ সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাক দু’জনকেই পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ওই মহিলা কনস্টেবলকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সকাল ১১ টা নাগাদ বহরমপুর থানার চুয়াপুর মোড়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আরও এক যুবকের। তাঁর নাম সুরজিৎ হালদার(৩০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটরবাইক নিয়ে চুয়াপুর মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুরজিৎ। এ সময় পিছন থেকে একটি সিমেন্ট ভর্তি ১০ চাকার ট্রাক সামনের গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে ওই বাইক চালককে ধাক্কা মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুরজিতের বাড়ি কাশিমবাজারের ভাটপাড়া এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে।

Shares

Comments are closed.