রবিবার, অক্টোবর ২০

সাড়া জাগে না মেয়ের দু’পায়ে, আদরের ‘রাজকন্যা’র জন্য আস্ত ইগলু বানিয়ে ফেললেন বাবা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবীন্দ্রনাথের সেই কাবুলিওয়ালাকে মনে আছে? নাম ছিল রহমত। বিভুঁই থেকে আসা রহমত, ছোট্ট মিনিকে দেখেই যাঁর ভিন্‌দেশে থাকা নিজের সন্তানের কথা মনে পড়ে যেত। আর সে কারণেই তিনি নানা উপহার নিয়ে বারে বারে ছুটে যেতেন তাঁর ‘খোঁকি’র বাড়িতে। অপত্য এক স্নেহই তাঁকে টেনে নিয়ে যেত! সন্তান-স্নেহ। রবীন্দ্রনাথ সে ধাঁচেই এঁকেছিলেন রহমতের চরিত্র। বাবা-সন্তানের সম্পর্ক নিয়ে দেশে, বিদেশে কম লেখালেখি হয়নি। আর বাবা-মেয়ের সম্পর্ক তো সবসময়ই স্বর্গীয় আস্বাদে ভরা। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তো সে কবেই লিখে গিয়েছিলেন বাবাদের মনে সযত্নে লালিত কথাটি, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে।’ বাবা-মেয়ের সেই অপত্য স্নেহের কাহিনী এ বার মিলল সোশ্যাল মিডিয়াতেও। এই বাবা-মেয়ের গল্প ভার্চুয়াল মিডিয়াতে এখন রীতিমতো ভাইরাল।

আদরের কন্যা জাহারা। জন্ম থেকেই দু’পায়ে বাসা বেঁধেছে প্রতিবন্ধকতা। দু’হাত সচল থাকলেও, দু’পায়ে সাড়া জাগে না। বাবার তাই বড়ই চিন্তা মেয়েকে নিয়ে। আদরের জাহারার জন্য বিশেষ কিছু করার ভাবনা থেকেই তার বাবা বানিয়ে ফেলেছে আস্ত একটা ইগলু। দুধসাদা বরফের বাড়ির ভিতর জাহারা যেন রূপকথার ‘স্নো-হোয়াইট’। সেই ছবিই পোস্ট হয়েছে রেডিটে। বাবা-মেয়ের মিষ্টি হাসিই মন জয় করেছে কোটি কোটি ভিউয়ারের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিয়োর বাসিন্দা গ্রেগ ইকোর্ন। জাহারা তাঁর পালিতা কন্যা। আরও আটটি সন্তান রয়েছে গ্রেগ ও তাঁর স্ত্রীয়ের। সকলকেই দত্তক নিয়েছেন ইকোর্ন দম্পতি। জাহারা এখন উনিশের ঝকঝকে তরুণী। তবে হুইলচেয়ারেই বন্দি তাঁর জীবন। গ্রেগ জানিয়েছেন, নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা মনের আনন্দ ও মুখের অনাবিল হাসি দিয়েই জয় করেছে জাহারা। তার জন্য বিশেষ কিছু করার ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল গ্রেগের মাথায়। সুযোগও এসে যায় অচিরেই। আট ছেলেমেয়ে যখন বরফে স্লেজিং করতে ব্যস্ত, গ্রেগ ও তাঁর স্ত্রী বরফ দিয়ে বানিয়ে ফেলেন ইগলু। অনেকটা দুর্গের আদলে বানানো সেই বরফের বাড়ির সামনে গোলমতো দরজা, তার একটা ছাদও রয়েছে। দরজা বানানো হয়েছে এমন ভাবে যাতে হুইলচেয়ার স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে। গ্রেগ বলেছেন, ‘‘প্রায় চার ঘণ্টা লেগেছে এই বরফের বাড়ি বানাতে। স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের সঙ্গে এই বাড়ি বানাতে পেরে আমি খুব খুশি।’’  স্লেজিং করতে না পারলেও এই ইগলুর ভিতর বসেই বরফ আর প্রকৃতির ভরপুর স্বাদ নিয়েছে জাহারা।

জাহারা ও গ্রেগের ছবি প্রথম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন গ্রেগের বন্ধু ড্যানিয়েল থোমাস। সেই ছবি পরে শেয়ার করে রেডিট। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই পোস্টে ভোট পড়ে প্রায় ৭০,০০০। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, ‘গ্রেগ একজন আদর্শ পিতা।’ প্রশংসার বন্যা বইয়ে দেন নেটিজেনরা। তবে ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাতামাতিতে খুব একটা উৎসাহিত নন গ্রেগ। মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন, এটাই তাঁর পরম প্রাপ্তি।  বাবারা বুঝি এমনই হয়!

Comments are closed.