শুক্রবার, জুন ২১

অনেক বছর পরে সঞ্জয় মামার রিক্সায় উঠলেন মিমি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : সেই রিক্সায় আজ আবার উঠল মেয়েটি। সেই রিক্সা, যাতে চেপে ছোট্ট মেয়েটি স্কুলে যেত। টিউশন নিতে যেত। এমন কি যেত বন্ধুদের বাড়িতেও।  বছর দশেক বাদে সেই রিক্সায় আজ আবার উঠল মেয়েটি। তবে সে দিনে়র সঙ্গে আজ অনেক তফাত। আজ তার জন্য যত্ন করে ফুল দিয়ে রিক্সা সাজিয়ে এনেছিল রিক্সাওয়ালা। রিক্সায় ওঠার আগে তড়িঘড়ি পেতে দিচ্ছিল তোয়ালে। তাতেই বেঁকে বসে সওয়ারি। “না তোয়ালে পাততে হবে না।” কিন্তু নাছোড় রিক্সাওয়ালাও। অগত্যা….।

মাঝখানে যে আসলে বয়ে গেছে অনেকটা সময়।  সেই মেয়েটি আজকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। তাঁর রিক্সাওয়ালা সঞ্জয় পাসোয়ান অবশ্য এখনও রিক্সাই টানেন।  জলপাইগুড়ির বাড়িতে এসে রিক্সায় ওঠার দরকার ভেবে সঞ্জয় মামাকেই ডেকে পাঠালেন মিমি।

মাঝে মাত্র দু দিন। ১৮ তারিখ দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে। তাই আগামীকাল প্রচার শেষ এই তিন কেন্দ্রে। শেষ বেলার প্রচারে ঝড় তুলতে নিজের শহর জলপাইগুড়িতে পৌঁছেছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।

নিজে কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী। তৃণমূলের টিকিটে লড়ছেন মিমি। সেখানে ভোট একেবারে শেষ দফা, অর্থাৎ ১৯ মে। তাই নিজের প্রচার পর্ব আপাতত তুলে রেখে নিজের শহরের তৃণমূল প্রার্থী বিজয়চন্দ্র বর্মনের জন্য ভোট চাইতে পথে নামলেন মিমি।

সোমবার সকাল সকাল পান্ডাপাড়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা ফুল দিয়ে সাজানো রিক্সায়। রিক্সাওয়ালা সঞ্জয় পাসোয়ান শোনাচ্ছিলেন পুরোনো সেই দিনের কথা। বলছিলেন, “আমার রিক্সায় করে ইস্কুলে যেত ছোট্ট ম্যাডাম। টিউশন নিতে যেত, বন্ধুদের বাড়িতে যেত। আজ সকাল সকাল ফোন পেয়ে চলে এসেছি। ম্যাডামকে নবীন সংঘে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

জনতার ভিড়ে পুরো পথ অবশ্য আর রিক্সায় যাওয়া হয়নি মিমির। নেমে পড়তে হয়।  বলেন, “সঞ্জয় মামা বলতো, বড় হয়ে তুই আমেরিকা যাবি। আমি কিডনি বিক্রি করে সেই টাকা দেব।”

এ দিন পান্ডাপাড়া কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর নবীন সংঘে নিজের ফ্যান ক্লাবের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিকেলে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী বিজয় চন্দ্র বর্মনের হয়ে রোড শো করেন মিমি। করেন পথসভাও।  বিজয়বাবুকে বিপুল ভোটে জয়ী করার জন্য এলাকার মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি।

তবে বিজেপির বক্তব্য, রুপোলি পর্দার মানুষজনকে এনে যতই মানুষকে আকর্ষণের চেষ্টা করুক শাসকদল, আদতে এ সবে কিছুই হবে না। দলের জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, “মিমি জলপাইগুড়ির মেয়ে হতে পারেন, কিন্তু রাজনীতিতে উনি পরিযায়ী পাখি। ওঁদের এনে লাভ হবে না। মানুষ সব বুঝতে পারেন। তাঁরাই আমাদের ভোট দেবেন।”

Comments are closed.