রবিবার, এপ্রিল ২১

সারাদিন প্রচারে, একরত্তি ছেলের জন্য মন পড়ে থাকে রূপালীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া :  দূরে লোকসভা, সামনে ভোট। নেহাতই আটপৌরে জীবন থেকে সেই ব্যুহে ঢুকে পড়েছেন একেবারেই দৈব দুর্বিপাকে। তারপর থেকে দিনগুলিই যেন বদলে গেছে অজান্তে। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। তাই সকাল থেকেই হাজার ব্যস্ততা। মায়ের মন কিন্তু পড়ে রয়েছে কোলের ছেলেটার দিকে। মিটিং, মিছিল, প্রচার সবের থেকে একটু নিভৃতি পেলেই দেখে নিচ্ছেন আত্মজকে। বা জেনে নিচ্ছেন তার খবর।

কৃষ্ণগঞ্জের নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাস এ বার রাণাঘাট কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। সবে ২৫ পেরোনো রুপালী এই সে দিন পর্যন্ত ছিলেন আদ্যন্ত সংসারী। স্বামী আর একবছরের ছেলেকে ঘিরেই ছিল জগৎ। সরস্বতী পুজোর দিন আততায়ীর গুলিতে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ছক ভাঙা জীবন রূপালীর।

বিধায়ক সত্যজিৎ ছিলেন মতুয়াদের অন্যতম মুখ। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে রানাঘাট উত্তর পূর্ব ও  কৃষ্ণগঞ্জ এলাকা পুরোটাই সীমান্ত লাগোয়া ও এখানকার অধিকাংশ মানুষই মতুয়া সম্প্রদায়ভূক্ত। তাই মতুয়া ভোট যে এই লোকসভার একটা বড় ফ্যাক্টর সেটা আঁচ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করেছেন সত্যজিতের স্ত্রীকে। আর তারপরেই অচেনা রাস্তায় হাঁটা শুরু রূপালীর। এখন দিন শুরু হয় পাঁচটায়। তবে সংসারের আনুসঙ্গিক কাজ নয়, বরং প্রচার, কর্মিসভা, পথসভা সব শেষ করে দিন শেষ হয় সেই রাত এগারোটায়।

রূপালী জানালেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে একরত্তি ছেলে সৌমজিতের দেখাশোনার কাজটুকু কোনওরকমে সেরে ফেলতে চান তিনি। তার সারা দিনের খাবার তৈরি করা, তার জামাকাপড় পরিষ্কার করা, সব কিছু সেরে সংসারের যতটুকু পারা যায়। ভোটের তাগিদে পথে নামতে হচ্ছে রোজ। তবে কথায় এখনও সাবলীল নন। বললেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলের সব কাজ সেরে তারপর চা বানাই, টিফিন বানাই, তারপর ছেলেকে খাইয়ে দলের কাজ শুরু করি।”

ছেলেকে এক মুহূর্তের জন্যেও কাছছাড়া করেননি এতদিন। সেই অভ্যেস তো রাতারাতি যাওয়ার নয়। তাই এতদিন একরত্তি ছেলেকে কোলে নিয়েই রোদে হেঁটে প্রচারে বেরিয়েছেন।  আর বিশ্রামের ফাঁকে ছেলেকে খাইয়ে আবার পথচলা শুরু করেছেন। কখনও পায়ে হেঁটে কখনও হুড খোলা গাড়িতে। কিন্তু গত দু দিনে গরম যেভাবে বেড়েছে, মায়ের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ছেলে। তাই দলের নির্দেশে তাকে ঘরে রেখেই এখন প্রচারে বের হচ্ছেন রূপালী। একান্নবর্তী সংসারের অন্য সদস্যদের কাছে। তাই মন পড়ে থাকে ঘরে। রাতে বাড়ি ফিরে জড়িয়ে ধরেন ছেলেকে। তাঁর প্রধান আশ্রয়।

কথায় জড়তা কাটেনি এখনও। দলের নেতারা যেভাবে শিখিয়ে পড়িয়ে নিচ্ছেন তাঁকে কাজ চলছে কোনওমতে। বললেন, “আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি যে এলাকায়, সেখানে অনেক সমস্যা আছে যেমন গঙ্গার ভাঙ্গন, তাঁতশিল্পের সঙ্কট, সীমান্ত সমস্যা। ভোটে জিতলে এ সবই গিয়ে সংসদে বলব।”

গতবার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে দুই লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। লড়াই হয়েছিল সিপিএমের সঙ্গে। এ বার এই কেন্দ্রের লড়াই চতুর্মূখী। কারণ পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকেই একটু একটু করে জায়গা তৈরি করেছে বিজেপি। তাই লড়াইটা যে বেশ কঠিন সেটুকু আঁচ করে ফেলেছেন রূপালী।

Shares

Comments are closed.