মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

তপ্ত রোদে কোলে ১১ মাসের বাচ্চা নিয়ে কীভাবে দোরে দোরে ঘুরবেন রূপালী, চিন্তায় দলও

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া:  প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার দিনই দলের সুপ্রিমোর গলায় ছিল উদ্বেগ, “একটা কোলের বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবে ও?”

এখন রূপালীও ভাবছেন সত্যি, ঠা ঠা রোদে কী করে, কোথায় যাবেন তিনি, কোলে যে ১১ মাসের ছোট্ট ছেলে।

মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই জেলায় জেলায় ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। শুরু হয়ে গিয়েছে প্রচার। কোথাও ধীরে আস্তে, কোথাও জোরকদমে। কিন্ত সে ভাবে নামতে পারছেন কই রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রূপালী বিশ্বাস?

এত দিন শুধুই সংসার আর ছেলে সামলেছেন। একমুহূর্তের জন্যেও চোখের আড়াল করেননি একরত্তি সন্তানকে। রাতারাতি সেই অভ্যাসটা বদলে ফেলবেন কী করে সেটাই এখন রূপালীর চ্যালেঞ্জ।

৯ জানুয়ারি আততায়ীর গুলিতে মারা গিয়েছেন বিধায়ক স্বামী সত্যজিৎ বিশ্বাস (৪০)। শেষ হয়েছে তিন বছরের বিবাহিত জীবন। কোলে ১১ মাসের সন্তান। কী ভাবে তাকে প্রতিপালন করবেন সেই চিন্তায় যখন তোলপাড়, তখনই রানাঘাট এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব রূপালীর কাঁধে তুলে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা যে সমবেদনার প্রেক্ষাপটে তা গোপন করেননি মমতা। উহ্য যেটা রয়ে গিয়েছে, তা হল সেই সমবেদনা ভোটবাক্স পর্যন্ত টেনে নিয়ে আসার চেষ্টা।

কিন্তু কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের বিধবা স্ত্রী ও তাঁর সন্তানের জন্য দলনেত্রীর এই ভাবনায় প্রচার শুরুর মুখে যেমন বিড়ম্বনায় প্রার্থী, তেমনি দলের জেলা নেতৃত্বও। ঠা ঠা রোদ উপেক্ষা করে একরত্তি ছেলে কোলে বৃহস্পতিবার প্রচার শুরু করলেও আগামী দিনগুলিতে প্রচারের ঝড় কী ভাবে সামলাবেন তা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে রীতিমতো গবেষণা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মতুয়া মহাসংঘের ধর্মগুরুকে প্রণাম করে রানাঘাটের মাটিকুমড়া এলাকায় প্রচার করেন রূপালী। নদিয়া জেলা মতুয়া মহাসংঘ, রানাঘাট ২ নং ব্লক মতুয়া মহাসংঘ ও নোকাড়ি অঞ্চল মতুয়া মহাসংঘের উদ্যোগেই বাধা হয়েছিল মঞ্চ। সেখানে রাখা ছিল রূপালীর স্বামী সত্যজিৎ বিশ্বাসের প্রতিকৃতিও। মঞ্চে প্রণাম সেরে নেমে ছেলে কোলে রূপালী ঘুরেছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি।

তবে শুক্রবার আর বের হননি তিনি। তাঁর হয়ে প্রচার মিছিল করেন স্থানীয় দুই বিধায়ক সমীর পোদ্দার ও রত্না ঘোষ কর। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও দলের অন্দরেই কথা উঠেছে, অতটুকু ছেলেকে রেখে কী ভাবে সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভোটের কাজ করবেন রূপালী? টিকিট দেওয়ার আগে কেন এটা বিবেচনা করা হল না ? বিশেষ করে রানাঘাট দক্ষিণ ও কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেখানে জোরদার প্রচার ছাড়া কী ভাবে বিজেপির মোকাবিলা করা যাবে তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নেতারা। সেক্ষেত্রে  বিজেপিকে কি রানাঘাট আসন উপহার দেওয়া হল? উঠছে সে প্রশ্নও।

এ সব নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না রূপালী। আপাতত তাঁর একটাই ভাবনা রোদ চড়ছে, তাতও বাড়ছে, ছেলেকে সুস্থ রেখে কী ভাবে প্রচারে বের হবেন তিনি? কী ভাবে পৌঁছে যাবেন মানুষের কাছে। নেত্রীর দেওয়া দায়িত্ব তো রক্ষা করতে হবে।

Shares

Comments are closed.