রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

শিশুদিবসে বাহারি পোশাক, সুস্বাদু খাবার নিয়ে অবহেলিত শৈশবের কাছে দৃষ্টিহীন যুবকরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া : রোজ হাওড়া স্টেশনের ইতিউতি খাবারের খোঁজে ঘুরে বেরিয়ে কেটে যায়। যাত্রীদের তাচ্ছিল্য, পুলিশের রাঙা চোখ, এ সবই ওদের গা সওয়া। সেই চেনা আকাশেই বৃহস্পতিবার যেন রামধনু উঠেছিল।

শিশু দিবসের বিকেলে স্টেশনের ভবঘুরে শিশুগুলিকে কাছে ডেকে নিয়ে তাদের হাতে খাবারের প্যাকেট, বাহারি পোশাক তুলে দিলেন জনা দশেক যুবক। স্নেহের হাত রাখলেন মাথায়। স্পর্শ দিয়ে অনুভব করলেন তাদের আনন্দ।

আসলে ইচ্ছা শক্তিটাই যে বেঁচে থাকার আসল মূলধন দেখালেন দৃষ্টিহীন ১০ যুবক। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে হাত বাড়ালেন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার শিশুদের দিকে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এই ছাত্ররা। তাঁদেরই একজন শুভঙ্কর মান্না বললেন, ‘‘শৈশবটাই জীবনের সেরা সময় সেটা যেই শিশুরা কোনওদিন বুঝতেই পারল না, তাদের কথা ভেবেই এগিয়ে এসেছি আমরা। আমাদেরও শারীরিক বাধা রয়েছে। সেটাকে টপকেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছি। ওরাও স্বপ্ন দেখুক। কখনও না কখনও মেঘতো কাটবেই।’’

সূর্যকুমার পার্বতীরাও অবাক হয়ে দেখছিল ওদের। দৃষ্টি দিয়ে নয়, কেবলমাত্র স্পর্শ দিয়ে কীভাবে ওরা বুঝে নিচ্ছিল তাদের আনন্দ আর খুশি।

শুধু তারাই নয়, ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের চোখ যেখানে আটকে থাকার কথা সেই ট্রেনের টাইম সিডিউল লেখা ডিসপ্লে বোর্ডের দিক থেকে বারবার সরে যাচ্ছিল ন’ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে থাকা চাইল্ড হেলথ ডেস্কের সামনে ভিড়টার দিকে। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শিশু দিবস উদযাপনের এক বিরল অনুষ্ঠান তখন চলছে সেখানে।

 

Comments are closed.