শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

ক্ষোভের আগুনে পুড়েছে ফাঁড়ি, গাছতলায় বসে ডিউটি করছেন পুলিশ কর্মীরা

বিবেক সিংহ, মালদা:  ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে জনতা। তারপর থেকে খোলা আকাশের নীচেই চলছে থানা। চেয়ার টেবিল নিয়ে মানুষের অভিযোগ শুনতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা বসে রয়েছেন গাছতলায়। কবে পরিকাঠামো ঠিক হবে তার সদুত্তর দিতে পারেননি মিল্কি ফাঁড়ির আধিকারিকরা।

রবিবার লক্ষ্মীপুজোর দিন জুয়ার আসর বসেছিল নিয়ামতপুর গ্রামের বিভিন্ন পাড়ায়। সেখানে অভিযান চালানোর সময় মিল্কি ফাঁড়ির পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় এনামুল খান (৫৪) নামে এক গ্রামবাসী। ওইদিনই পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় তাঁর। এনামুলকে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে বলে সোমবার অভিযোগ করে তাঁর পরিবারের লোকজন। শুরু হয় থানা ঘেরাও। পরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। এনামুলের ক্ষিপ্ত পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশ মিল্কি ফাঁড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশের তিনটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। গ্রামবাসীদের মারে জখম সোমনাথ অধিকারী নামে একজন এএসআই এখনও মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ফাঁড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই ফাঁড়িতে বাড়তি বাহিনী রাখারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলার পুলিশসুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, পুলিশ ফাঁড়ি পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ায় বাইরে গাছের নীচে বসে কাজ করছেন পুলিশকর্মীরা। নিরাপত্তার খাতিয়ে মিল্কি ফাঁড়িতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন হয়েছে। এই বাহিনীও পুলিশলাইন থেকেই যাতায়াত করছে।  তিনি বলেন, “এই ফাঁড়িটি হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে। নতুন করে ভবন নির্মাণ এখানেই হবে, না ফাঁড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। যতদিন না নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে, ততদিন এ ভাবেই কাজ চালাতে হবে।”

নিয়ামতপুর গ্রামে পুলিশ বাড়ি বাড়ি তাণ্ডব চালিয়ে ধরপাকড় করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। রীতিমতো পুরুষশূন্য গোটা গ্রাম। যারা সে দিনের ঘটনায় জড়িত নন, এমন লোকদেরও পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের মহিলারা। ধৃতদের বিরুদ্ধে ১১টি বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রামবাসীদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সুপার বলেন, “যারা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়েছে, তাদের ধরপাকড়ের চেষ্টা চলছে। ওই বন্দির মৃত্যু সম্পর্কে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়নি।”

Comments are closed.