#BREAKING: জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের কিনারা, আর্থিক লেনদেনেই খুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ:  অবশেষে কিনারা হল জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ডের। একটি পলিসির ২৪ হাজার প্রিমিয়ামের জন্যই এই খুন বলে দাবি করেছে পুলিশ। খুনের সাত দিন পর সোমবার গভীর রাতে নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের পৈত্রিক ভিটে যেখানে, সেই সাগরদিঘি থেকে গ্রেফতার করা হয় উৎপল বেহড়া নামে  ২০ বছরের এক যুবককে। পেশায় রাজমিস্ত্রি উৎপলই এই খুনে অন্যতম অভিযুক্ত বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হতেই আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ। তিনি জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন  বিমা কোম্পানির এজেন্টের কাজও করতেন বন্ধুপ্রকাশ। তাঁর কাছে থেকে একটি পলিসি করিয়েছিলেন অভিযুক্ত উৎপল। প্রথম বছরের ২৪ হাজার টাকা প্রিমিয়ামের রসিদ দিলেও দ্বিতীয় বছর টাকা নেওয়ার পর রসিদ দিচ্ছিলেন না বন্ধুপ্রকাশ। এমনটাই অভিযোগ উৎপলের। পুলিশসুপার বলেন, “রসিদ না পাওয়ায় উৎপলের ধারণা হয়েছিল টাকা জমা দেননি বন্ধুপ্রকাশ। তাই বন্ধুপ্রকাশের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছিল সে। তাই নিয়ে বচসা শুরু হলে  উৎপলকে গালিগালাজ করে বন্ধুপ্রকাশ। সেই রোষেই ওই শিক্ষক, এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে খুন করেছে বলে জেরায় জানিয়েছে অভিযুক্ত।”

    গত মঙ্গলবার, বিজয়া দশমীর দিন বেলা ১১টা নাগাদ জিয়াগঞ্জ শহরের লেবুবাগানে বাড়ির ভেতর থেকে ঢুকে খুন করা হয়েছিল প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিউটি মণ্ডল পাল ও তাঁদের ৬ বছরের ছেলে বন্ধুঅঙ্গন পালকে। বাড়ির শোওয়ার ঘরের খাটের উপর দেহ মিলেছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর। মেঝেতে পড়েছিল তাঁর ছেলের রক্তাক্ত দেহ। পাশের ঘর থেকে পাওয়া গিয়েছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর স্ত্রী বিউটির ক্ষতবিক্ষত দেহ।

    এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্যজুড়ে। বন্ধুপ্রকাশবাবু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকের কর্মী হওয়াতেই তাঁর পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ ওঠে। হত্যাকাণ্ডের সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে প্রথম থেকেই এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ কার্যত উড়িয়ে দেন জেলার পুলিশকর্তারা। টাকা পয়সা নিয়ে গন্ডগোলের জেরেই এই খুন এমনটা আঁচ পেয়ে বীরভূমের সিউড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর এক বন্ধু সৌভিক বণিককে।  আটক করা হয়েছিল বন্ধুপ্রকাশবাবুর বাবা অমর পালকেও। যেহেতু বন্ধুপ্রকাশবাবু ছিলেন তাঁর বাবার প্রথম পক্ষের সন্তান, তাই দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে কোনও টানাপড়েন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখাই ছিল উদ্দেশ্য। তবে তাঁদের ম্যারাথন জেরার পর সোমবারই ছেড়ে দেওয়া হয় অমরবাবুকে।

    এরপরেই রাতে গ্রেফতার করা হয় উৎপল বেহড়া নামে ওই যুবককে। তাকে রাতভর জেরা করে এই পলিসির বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। জেরার মুখে সে খুনের কথা কবুল করে বলে পুলিশের দাবি। তার সঙ্গে সে দিন ঘটনাস্থলে আরও কেউ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেলার পুলিশসুপার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More