বুধবার, মার্চ ২০

মিষ্টি নয়, খাবারেও নয়, চা-কফিতে তো নয়ই! একমাস চিনি খাওয়া বন্ধ রাখলে কী হবে জানেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো এসে গেছে। বাঙালির পুজো মানে তো শুধু মায়ের পুজো নয়, পেটের পুজোও বটে। এই সময় মনটা একটু মিষ্টি মিষ্টি করে বইকি! আর বিজয়ার কোলাকুলি সেরে এক হাঁড়ি রসগোল্লা না সাবড়ালে তো পুজোটাই মাটি। কেমন হয় যদি একমাস মানে ৩০ দিন চিনি খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দেন। রান্নায় তো বটেই, মিষ্টিও নৈব নৈব চ। চোখ কপালে উঠলেও এক মাসের জন্য খাবারের লিস্টি থেকে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় শব্দটা একেবারে ছেঁটে ফেললে কী হবে বা হতে পারে সেটাই জানিয়েছেন মার্কিন গবেষকরা।

‘দ্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর একদল গবেষকের দাবি, শুধু নুন থেকে নয় চিনি থেকেও বাড়তে পারে রক্তচাপ। বেশি চিনি খাওয়ার সঙ্গে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ার সম্পর্ক আছে৷ আবার শরীরে যে ধরনের প্রদাহ হলে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যে চর্বি জমে হৃদরোগের সূত্রপাত হয়, তা ঘটাতেও অনুঘটকের কাজ করে চিনি৷ সব মিলে, বেশি চিনি খেলে, সে আপনার ওজন যতই স্বাভাবিক থাকুক না কেন, হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা খুব প্রবল।

কতটা চিনি বিপজ্জনক

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র নির্দেশ অনুযায়ী, পুরুষদের দিনে ৯ চামচ ও মহিলাদের ৬ চামচের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়৷ মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে, দিনে যত ক্যালোরি খাবার আমরা খাই, তার ১০–১৫ শতাংশের কম আসা উচিত মিষ্টি থেকে৷ অর্থাৎ সারা দিনে ২০০০–২৫০০ ক্যালোরি খেলে ২০০–৩০০ ক্যালোরির বেশি কোনও ভাবেই আসা উচিত নয় মিষ্টি থেকে৷ চিনির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে হৃদরোগের সম্ভাবনাও।

এখন দেখে নিন চিনি না খেলে কী কী হতে পারে-

বয়সকে বলবেন গুডবাই- আমাদের রক্তে শর্করা শরীরে একটা বিশেষ পরিবর্তন আনে যাকে বলে গ্লাইকেশন।  এই পদ্ধতি ত্বকের প্রোটিন কোলাজেন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।  শুষ্ক কোষকে সরিয়ে নতুন কোলাজেন তৈরি করে, ফলে ত্বক অনেক তরতাজা দেখায়।  রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে এই প্রোটিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বয়স অনেক বেশি দেখায়।

শক্তি সঞ্চয়- চিনি বা শর্করা মানেই হল কার্বোহাইড্রেট, যেটা কম সময় হজম হয়।  কম পরিমাণ চিনি সহজেই হজম হয়।  পেটের সমস্যা থেকে অব্যাহতি দেয়।  গবেষকরা বলছেন, এর জায়গায় প্রোটিন জাতীয় খাবার খান, আমন্ড খেলেও তার থেকে এনার্জি জমা হয়। 

পেটের চর্বি থেকে মুক্তি– অতিরিক্ত মিষ্টি খেলে মেদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরে তৈরি হয় অ্যাডিপোকিনস এবং অ্যাডিপোস হরমোন যা রক্তে মিশে নানা রকম প্রদাহজনিত রোগ তৈরি করে।  ফলে বাড়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা।  ক্যানসারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

ডায়াবেটিসের চিন্তা কমবে– চিনি খাওয়া বন্ধ করলে অবশ্যই টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কমবে। তবে শুধু এক মাসের জন্য নয়, এর পরেও চিনির মাত্রা রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে। 

তা হলে চিনির বিকল্প কী:

  • চিনির বদলে খাবারে মেশান আখের গুড়, খেজুর গুড় বা ঝোলা গুড় কিংবা তাল পাটালি৷ ভিটামিন বি-৬, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম পাবে শরীর৷
  • গুড় ভাল না লাগলে এক–আধ সময় আখের রস খেতে পারেন৷ ভিটামিন বি, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি খনিজের জোগান পাবেন৷
  • পুডিং বা কাস্টার্ড ভাল লাগলে তাতে চিনির বদলে মেশান বিভিন্ন ফল৷
  • সাধারণ চিনির বদলে খেজুরের চিনি দিয়ে কেক বা পুডিং বানান৷ খেজুর বা তালের রস জ্বাল দিয়ে বানানো সিরাপও ব্যবহার করা যায়৷
  • টাটকা মধুও হতে পারে চিনির বিকল্প৷ ক্যালোরি কম, পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মিলবে প্রচুর৷
  • কৃত্রিম চিনি একেবারেই নয়৷ সুগার ফ্রি কাশির ওষুধ, ইয়োগার্ট ইত্যাদিতে অ্যাসপারটেম জাতীয় সুগার সাবস্টিটিউট মেশানো থাকে৷ নিয়মিত খেলে হৃদরোগ বাড়বে বই কমবে না৷
Shares

Comments are closed.