মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

মেঠো পথে ঘুরতে ঘুরতে কিঞ্চিৎ মুড়ি বাতাসা, সেলিমের সময় নেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর:  ভোটে জিততে বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডল ভরসা রেখেছিলেন গুড় বাতাসায়। তবে সেলিম কিন্তু ভরসা রাখেন মুড়ি বাতাসাতেই।

প্রায় প্রতিদিনই সকাল সকাল রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে চলে যাচ্ছেন। মেঠো পথ ধরে ঘুরছেন গৃহস্থের বাড়ি বাড়ি। কখনও পাশে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের মহিলাদের সুখ দুঃখের ভাগীদার হচ্ছেন, কখনও গৃহস্থ বাড়ির মেঠো দাওয়ায় বসে শুনছেন তাঁদের ভালো মন্দের গল্প। তাঁরই ফাঁকে চলছে রাজনীতির কথা আর ভোটভিক্ষে।

বেলা গড়ালে ধোকরাতে (সতরঞ্চি) বসে খবরের কাগজে মুড়ি বাতাসা নিয়ে ভাগ করে খাচ্ছেন সবার সঙ্গে। এই মুড়ি বাতাসার আড্ডাতেই চলছে গত পাঁচ বছরে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের জন্য কী কী করেছেন তার হিসেব নিকেষ।

আর গুড় বাতাসা- মুড়ি বাতাসার প্রসঙ্গ তুলতেই সেলিমের ঝটিতি জবাব, “ঘরের মানুষই হোক, আর অতিথি, ভালবেসে তাঁদের মুড়ি বাতাসা খাওয়ানোই এখানকার রেওয়াজ। যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই এমন আপ্যায়ন। না গ্রহণ করে যাই কী করে?”

বিজেপি এখনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি। মাত্র দু দিন আগে দলের প্রার্থীদের নাম জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই অন্তত প্রচারের দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছেন রায়গঞ্জের বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০টির বেশি পাড়া বৈঠক ও টোলা বৈঠক সেরে ফেলেছেন তিনি।

গৃহস্থ বাড়ির উঠোনে কোথাও শ্রোতা ৬০ জন, কোথাও সাকুল্যে ১০০ জন। তাঁদের সামনে কখনও বৈঠকী মেজাজে কখনও হাতে মাইক নিয়ে পরিস্থিতি বোঝাচ্ছেন সেলিম। বড় জনসভা নয়, আপাতত এই ছোট ছোট পাড়া বৈঠকেই প্রচার ভাল এগোচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “এ ভাবেই বেশি মানুষের খুব কাছাকাছি পৌঁছনো যাচ্ছে।” পাড়া ঘুরতে ঘুরতেই সেলিম বললেন, “যাঁরা বিজেপি আর তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের শপথ নিয়েছেন তাঁরাই আমাদের পাশে।”

রায়গঞ্জ কেন্দ্রে ত্রিমূখী লড়াইয়ে সেলিমের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের কানহাইয়ালাল আগরওয়াল। ইসলামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল কংগ্রেসের টিকিটে ইসলামপুরের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যোগ দেন তৃণমূলে। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হলেও এখনও পুরোদস্তুর প্রচার শুরু করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে বিজেপির কে প্রার্থী হবেন জানা যায়নি তাও। এই অবসরে ফাঁকা ময়দানে প্রচারে এগিয়ে থাকতে সেলিমের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

আজ সকালে রায়গঞ্জের বাহীন গ্রাম পঞ্চায়েতের চুড়াডাঙ্গি গ্রামে প্রচার সারলেন এই বাম প্রার্থী। বাড়ি বাড়ি ঘুরে গ্রামের সবার খোঁজ খবর করলেন। সঙ্গে চলল ভোটভিক্ষে। এক বাসিন্দা সহেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গেলে প্রার্থীকে ধান দুব্বো দিয়ে বরণ করে নিলেন সহেন্দ্রবাবুর স্ত্রী বাসন্তী। এ গ্রামেও ছিল মুড়ি বাতাসার আয়োজন।

Shares

Comments are closed.