হাতি যাতে পথ না রুখে দেয়, জঙ্গলের পথে পরীক্ষার্থীদের পাহারা বন দফতরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া : জঙ্গল পেরিয়ে নিত্যদিন স্কুলে যাতায়াত। কোনও দিন রাস্তা আটকে হাতি দাঁড়িয়ে থাকলে সে দিন আর স্কুলে না গিয়েই বাড়ি ফিরে আসা। এটাই রোজনামচা ওদের। কিন্তু জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার সময় এমনটা ঘটলে? আশঙ্কা তাই ছিলই। পরীক্ষার প্রস্তুতি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, এ সব নিয়ে ভাবনার পাশাপাশিই ছিল পরীক্ষা দিতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, তখন উপায়?

    সমান্তরাল পথেই এগিয়েছিল বনদফতরের ভাবনাও।  তাই গত দু’দিন ধরেই হাতির হানা এড়িয়ে নিরাপদে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে দফতরের কর্মীরা। আধিকারিকদের নির্দেশে  বাঁকুড়ার জঙ্গলের পথে চলছে কড়া নজরদারিও।

    চলতি বছর দলমা থেকে এ রাজ্যে আসা হাতির দল বাঁকুড়া জেলায় বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘাঁটি গেড়েছে। এরমধ্যে তাদের বেশি পছন্দ বেলিয়াতোড়, সোনামুখী, বড়জোড়ার বিভিন্ন রেঞ্জ। দলমা থেকে আসা দাঁতালের দল, এবং জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে পাকাপাকি ভাবে থেকে যাওয়া কয়েকটি রেসিডেন্সিয়াল হাতির দলের তাণ্ডবে অতিষ্ট হচ্ছেন গোটা জেলার মানুষ। রেসিডেন্সিয়াল হাতিগুলিই  কার্যত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে বন কর্মী ও আধিকারিকদের। ফসলহানি ও প্রাণহানির পরের পর খবর পেয়ে জেলা সফরে এসে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তারপরে হাতির হানা রুখতে তৎপরতা বাড়ে ব‌ন দফতরের।

    এ বার এই রেসিডেন্সিয়াল হাতি ও দলমা থেকে ফসলের লোভে ঢুকে পড়া হাতির দলের হানা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের রক্ষা করতে পরীক্ষার দিনগুলিতে জঙ্গল পথে কড়া নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদফতর। পরীক্ষা শুরুর পর প্রতিদিনই বাঁকুড়ার জঙ্গল পথে বন দফতরের সেই কড়া নজরদারিই চোখে পড়ছে বেলিয়াতোড়ের জঙ্গল এলাকায়।

    আশপাশের গ্রামের কয়েকশো পরীক্ষার্থী যাতে জঙ্গলের পথে নিরাপদে নিজেদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে ও সেখান থেকে ফিরে আসতে পারে তার জন্য জঙ্গলের রাস্তার দু’দিকে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর মোতায়েন করা হয়েছে হুলা পার্টি। রাখা হয় এমারজেন্সি মোবাইল ভ্যানও। হুলা পার্টির এক সদস্য সমর মহন্ত বলেন, ‘‘হাতির উৎপাতে গোটা এলাকার মানুষ দিশেহারা। প্রায়দিনই ঘরবাড়ি ভেঙে খেতের ফসল নষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছে হাতির পাল। আমরা পাহারা না দিলে ছেলে মেয়ে গুলোর হয়তো নিরাপদে পরীক্ষা দিতে যাওয়াই হতো না।’’

    বন দফতরের ভরসায় পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে এক পরীক্ষার্থী রাহুল দে বলল, ‘‘খুব চিন্তায় ছিলাম। হাতি বের হলে তো স্কুলেই যেতে পারি না। কী ভাবে পরীক্ষা দিতে যেতাম। ওরা পাহারা দিলে পরীক্ষাটা ঠিক করে দেওয়া যাবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More