শনিবার, মার্চ ২৩

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে আচমকা নেকড়ের হানা, ঝাড়গ্রামে গুরুতর জখম আট

দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম : ফের নেকড়ের হানা ঝাড়গ্রাম শহর লাগোয়া ৫টি  গ্রামে। জখম ৮ জন বাসিন্দাকে নিয়ে আসা হয়েছে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পাঠানো হল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

ভোর হয়েছে সবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সাড়ে পাঁচটা। অন্যদিনের মতোই ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজছেন কেউ, কেউ গোয়াল থেকে গরু বার করে মাঠের পথে, কেউ জমিতে যাচ্ছেন চাষের কাজে। হঠাৎই চিৎকার। গ্রামবাসীরা জানান, ছুটে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন জঙ্গল থেকে নেকড়ে বেরিয়েছে। যতক্ষণে খবর শুনছেন তারই মধ্যে নেকড়ের থাবায় জখম হলেন আরও কয়েকজন।

ভোরবেলা পরপর শিমূলডাঙা, ঘৃতখাম, জারুলিয়া, পসড়ো, কুন্দলডিহি গ্রামে নেকড়েটি হানা দেয় বলে জানা গিয়েছে। নেকড়ের আক্রমণে জখম আট জনের মধ্যে চারজন মহিলা। তাঁরা হলেন মলিনি মাহাত, সুশীলা মাহাতো, বালিকা মাহাতো ও সরস্বতী সিং। এঁদের মধ্যে ২৭ বছরের মলিনি গুরুতর জখম হওয়ায় তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতজনের চিকিৎসা চলছে ঝাড়গ্রাম মহকুমা হাসপাতালে।

গত সাতই জানুয়ারি সন্ধেবেলা বাড়ির সামনে বসে আগুন পোহানোর সময় নেকড়ের হামলায় জখম হন জামবনির বাঁকশোল গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের যুবক ললিত ও তাঁর কাকু সুকুমার হেমব্রম।  তাঁদেরও নিয়ে আসা হয়েছিল ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। দশ দিন সেখানে ভর্তি থাকার পর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান তাঁরা । কিন্তু ২৫ তারিখ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে ললিত। ঘন ঘন বমি করতে থাকায় তাঁকে ফের ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরের দিন তাঁকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে রেফার করা হয়।

কিন্তু জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরেরদিনই ললিতকে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে রেফার করা হয়। রেফার করার কাগজে ‘সাসপেক্টেড র‍্যাবিস’ বলেই উল্লেখ করেছিলেন সেখানকার চিকিৎসকরা। অবশ্য  বেলেঘাটা নিয়ে যাওয়ার আগেই ২৭ জানুয়ারি মৃত্যু হয় ললিতের। পরবর্তীতে জলাতঙ্কের আশঙ্কায় ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে যাঁরা ললিতের চিকিৎসা ও দেখভাল করেছিলেন তাঁদের জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়।

আজ সকালে যে পাঁচটি গ্রামে নেকড়েটি তাণ্ডব চালায় বাঁকাশোল গ্রাম থেকে তার দূরত্ব মেরেকেটে পাঁচ কিলোমিটার বলে জানা গেছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হোলাইচ্চি বলেন , ‘‘পায়ের ছাপ দেখে প্রাণীটি নেকড়ে বলেই আমাদের ধারণা। গ্রামবাসীদের চিকিৎসায় যা অতিরিক্ত খরচ লাগবে তা বহন করবে বন দফতর। গ্রামবাসীরা ক্ষতিপূরণও পাবে । ওটাকে ধরার চেষ্টা হচ্ছে। বনসুরক্ষা কমিটি ও বনকর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন।’’

Shares

Comments are closed.