রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

স্ত্রীকে মেরে দেহ ২২ টুকরো করেছিলেন, যাবজ্জীবন সাজা ইংরেজির শিক্ষকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। আর ফিরে আসেননি। পরে রায়গঞ্জ থেকে কালিয়াগঞ্জ প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাওয়া যায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ। চুল ছেঁটে দেওয়া কাটা মাথা উদ্ধারের পর সনাক্ত হয়েছিল মৃতদেহ। ১৪ বছর পর সেই খুনের মামলায় আজ রায়গঞ্জ জেলা আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হল নিহত সাবিনা খাতুনের স্বামী মহিদুর আলম, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম ও ননদ নুর নেহা বেগমকে।

স্ত্রীকে খুনের পর ২২ টি টুকরো করে বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অপরাধে আগেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রায়গঞ্জ করনেশন স্কুলের ইংরাজী শিক্ষক মহিদুর আলম, তার মা ও বোন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাজা শোনার জন্য রায়গঞ্জ জেলা আদালতে বৃহস্পতিবার উপচে পড়েছিল মানুষের ভিড়।

ইটাহার থানার কেউটালের বাসিন্দা মহিদুর রায়গঞ্জের ওই স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের পার্ট টাইম লেকচারার ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ওই কলেজেরই ছাত্রী কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সাবিনা খাতুনের। তাঁরা পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করেন। বিয়ের পর তাঁরা রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুলের পাশে একটি বাড়ি ভাড়া থাকতেন। অভিযোগ বিয়ের কিছুদিন পরে ২০০৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাপের বাড়ি কালিয়াগঞ্জ যাওয়ার নাম করে বেড়িয়ে নিখোঁজ হয়ে যান সাবিনা। ২৪ তারিখে কালিয়াগঞ্জ থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়।

২৬ তারিখ কালিয়াগঞ্জের কালুপুকুরের জলে প্লাস্টিকের ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় চুল কামানো একটি মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাবিনার শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার হয়। জলপাইগুড়ি ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় দেহাংশ। সাবিনার বাপের বাড়ির লোক অভিযোগ করেন, সাবিনাকে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহাংশ ৩০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছিল মহিদুর আলম। এরপরেই অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুর আলম এবং তার মা ও বোনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। ১৪ বছর পর বৃহস্পতিবার উত্তর দিনাজপুর জেলার ফার্স্ট ট্র‍্যাক দ্বিতীয় আদালতের বিচারক বিনয় কুমার প্রসাদ অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুর আলম, মরিয়ম বেগম, ও নূর নেহা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানার সাজা দেন।

রায়ের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুর অবশ্য বলেন, তিনি ন্যায় বিচার পাননি।

Comments are closed.