চা বাগানে উপচে পড়ল কমলালেবু, নতুন আয়ের দিশা দেখলেন চা শ্রমিকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: গতবার চা বাগানে চাষ হওয়া কমলালেবু আনন্দে বিলি করেছিলেন। স্বজনদের, পড়শিদের, চেনাজানাদের। বাকি যা ছিল, পাইকাররা এসে নিয়ে গিয়েছিলেন। এক একটা কমলালেবু ৫ টাকায়।

    এ বার কিন্তু গাছে ফল আসতেই বাগানে ঘোরাঘুরি শুরু হয়ে গেছে পাইকারদের। আর তিনিও এ বার পুরোপুরি পেশাদার কমলালেবু চাষি। বাজারের চাহিদা আর গতিপ্রকৃতি বুঝে নিতে চান আগেই। তবেই কথাবার্তা বলবেন ফল কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।

    ১৫ বিঘার একটা ছোট চা বাগান রয়েছে ময়নাগুড়ির চাষি মনোজ রায়ের। শেড-ট্রি হিসেবে সেখানে বড় হওয়া শিরীষ, ঘোড়ানিম গাছগুলিকে বছর চারেক আগে কেটে ফেলেছিলেন। তার জায়গায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে বসিয়েছিলেন শিটং থেকে আনা সাতশোটি কমলালেবুর চারা। গতবছর প্রথম সে গাছগুলিতে উপচে পড়েছিল ফল। চা বাগানের সবুজে কমলার আঁকিবুকি দেখতে ভিড় করে এসেছিলেন বহু মানুষ।

    সাধারণভাবে নভেম্বর মাসে লাস্ট ফ্লাশ এর পর থেকে চা বাগানে শুরু হয় লিন পিরিয়ড। এই সময় আর চা পাতা হয় না। ডিসেম্বর শুরুর পর বাগানে শুরু হয় চা গাছ ছেঁটে ফেলার কাজ। ফলে মার্চ মাস পর্যন্ত চা বাগান থেকে আয় হয় না তেমন। এই সময়ে বিকল্প আয়ের দিশা খুঁজতেই শেড-ট্রি হিসেবে কমলালেবুর চাষের ভাবনা মাথায় এসেছিল বলে জানিয়েছিলেন মনোজবাবু। সেই ভাবনাই এখন দিশা দেখাচ্ছে অন্যদেরও। ক্ষুদ্র চা চাষীদের সংগঠন ইতিমধ্যেই এই চা বাগানকে মডেল হিসেবে তুলে ধরেছে দেশে।

    ওই চা বাগানের শ্রমিকরাও জানাচ্ছেন, আগে ডিসেম্বর মাস থেকে আর কাজ থাকত না। সংসার চলত না। এখন বাগানে কমলালেবু চাষ হওয়ায় সারা বছর কাজ পাচ্ছেন তাঁরা। টাকাও রোজগার হচ্ছে। আগে যেমন চা পাতা না উঠলে কী খাবেন, সেই চিন্তায় থাকতেন, এ বার আর তা নেই।

    মনোজবাবু বলেন, “এ বার পাহাড়ে কমলার ফলন কম হয়েছে বলে শুনছি। কিন্তু আমার এখানে ফলন খারাপ হয়নি। আমার বাগানের কমলার স্বাদ ও গন্ধ ভুটানের কমলার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। স্বাভাবিক ভাবেই একটু বেশি দাম আশা করছি। কিছু কমলা দিয়ে এ বার পুজোয় আগাম বাজার ধরেছি। কালীপুজো শেষ হতে হতে আরও ভাল ভাবে বাজার পাওয়া যাবে বলেই আশা রাখছি।”

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More