হেফাজতে বন্দিমৃত্যুর জেরে রণক্ষেত্র মালদা, ফাঁড়িতে আগুন, মাথা ফাটল পুলিশের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা : লকআপে এক বন্দিকে পিটিয়ে মারার অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইংরেজবাজার। মৃতের পরিবার ও গ্রামবাসীদের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করা হয় তিনটি পুলিশের গাড়ি। উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত এক এএসআইকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ইংরেজবাজার থানার মিল্কি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশ আবাসন থেকে অফিস ঘর সমস্তই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল কর্মীরা। খবর পেয়ে জেলার পদস্থ পুলিশ কর্তারা মিল্কি পুলিশ ফাঁড়িতে তদন্তে যান। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম এনামুল খান (৫০)। তাঁর বাড়ি নিয়ামতপুর গ্রামে। রবিবার লক্ষ্মী পূজোর দিন নিয়ামতপুরের বিভিন্ন জায়গায় জুয়ার ঠেক চলছিল। সেই খবর পেয়ে মিল্কি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসাররা সিভিক ভলান্টিয়ার এবং কনস্টেবলদের নিয়ে নিয়ামতপুর এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশি অভিযানে  ধরা পড়ে যায় এনামুল খান নামে এক ব্যক্তি। তাকেই মিল্কি ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারের। এরপরই পুলিশ ফাঁড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এনামুল খানের । এনামুলকে লকআপে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আর তারপরেই ধুন্ধুমার বেঁধে যায় ওই পুলিশ ফাঁড়িতে।

    এনামুলের ভাই জলিল খান বলেন,  “জুয়া খেলার অভিযোগে দাদাকে মিল্কি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসাররা ধরে নিয়ে গেল। সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় দাদা গেল। হঠাৎ কী করে তাঁর মৃত্যু হতে পারে ভেবে পাচ্ছি না আমরা। পুলিশ বলছে, দাদা নাকি অসুস্থ ছিল। যদি অসুস্থই হত, তা হলে হাসপাতাল কেন তাকে ভর্তি করানো হল না। বরং দাদার মৃতদেহ ফেলে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কর্মীরা উধাও হয়ে গেল। পুলিশ দাদাকে লকআপে পিটিয়ে খুন করেছে।”

    এই ঘটনার পরেই এনামুলের পরিবারের লোক ও পড়শিরা ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু ফাঁড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁরা। “পুলিশের ওপর হামলাও করেনি কেউ। কারা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দিল এবং ভাঙচুর করলো কিছুই বলতে পারব না।” এমনটাই দাবি করেন তাঁরা।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বাবুল শেখ বলেন, “রবিবার রাতে তিনটি পুলিশ ভ্যান এনায়েতপুরে জুয়া খেলার ঠেকগুলোতে অভিযান চালায়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এনামুল পড়ে গিয়েছিল। সে সময় পুলিশ তাকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি পুলিশ ফাঁড়িতে এনামুলের মৃত্যু হয়েছে। যখন আমরা যায় ফাঁড়িতে যাই, দেখি কোনও পুলিশ অফিসার বা কর্মী নেই। ফাঁড়ির একটি বেঞ্চের উপর রাখা রয়েছে এনামুলের দেহ। তারপরেই লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ভাঙচুর এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।”

    এ দিকে মিল্কি পুলিশ ফাঁড়ির এক অফিসার জানিয়েছেন,  জুয়া খেলার অভিযোগে এনামুলকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সে যে অসুস্থ ছিল তা তাঁরা জানতেন না। হঠাৎ করেই ওই ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করে। মিল্কি গ্রামীণ হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও হয়েছিল। পরে তার মৃত্যু হয়। এরপরই মৃতের পরিবারের লোকেরা ফাঁড়িতে এসে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা চালায়। গাড়ি ভাঙচুর করে এবং ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    সোমনাথ অধিকারী নামে এক এএসআইয়ের মাথা ফেটে গেছে। মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More