সোমবার, অক্টোবর ১৪

ভোরের টাইগার হিলে এ বার থেকে মাত্র ৩০০ গাড়ি

দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং : এ বার থেকে ভোরবেলা টাইগার হিলে উঠতে পারবে কেবল তিনশোটি গাড়ি। তিনশো এক নম্বর গাড়িকে আর ওঠার পারমিশন দেবে না দার্জিলিং পুলিশ। সূর্যোদয় দেখতে পর্যটকদের ভিড়ে লাগাম টানতেই এই নয়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বরাবরই দার্জিলিঙে আসা পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখা। আর সে জন্য শেষ রাত থেকেই পর্যটকদের নিয়ে গড়ে প্রায় হাজার-দেড় হাজার গাড়ি রওনা হয় টাইগার হিলের দিকে। ইদানিং সে পথে যানজটে আটকে টাইগার হিল পর্যন্ত আর যেতেই পারেননি, খুঁজলে পাওয়া যাবে এমন অনেককেই। এই বিপুল ভিড়ে যেমন পর্যটকরা জেরবার, পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে টাইগার হিলের বাস্তুতন্ত্রেরও। এমনটাই দাবি জেলা পুলিশের। তাই রাশ টানতে ময়দানে নামল তারা। সপ্তাহখানেক আগেই নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, এখন থেকে ভোরবেলা টাইগার হিলে ওঠার জন্য কেবল তিনশো গাড়িকে পারমিট দেওয়া হবে। আগের রাতের মধ্যে জোগাড় করে ফেলতে হবে সেই পারমিট। তবে এই বিধিনিষেধ শুধুমাত্র রাত দুটো থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দিনের অন্য সময়ের জন্য নয়।

আর পুলিশের এই পদক্ষেপে রীতিমতো ক্ষুব্ধ পাহাড়ের গাড়িচালকরা। প্রতিবাদ জানাতে গত কয়েকদিন কোনও পারমিটই সংগ্রহ করেননি তাঁরা। তাই টাইগার হিলে ওঠেনি কোনও গাড়ি। জটিলতা কাটাতে আজ ট্যুর অপারেটর ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে বৈঠক করে পুলিশ।

বৈঠকে যোগ দিতে এসে হিমালয়ান হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছি। কারণ পাহাড়ের পর্যটনের স্বার্থে তা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাহাড়ে আসা সমস্ত পর্যটকই টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখতে যেতে চান। নতুন ব্যবস্থায় তাঁরা বঞ্চিত হবেন। আশা করি প্রশাসনিক উদ্যোগে সমস্যা মিটবে।” হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কো অর্ডিনেশন কমিটির কর্তা প্রদীপ লামার বক্তব্য, “রোজ গড়ে বারোশো থেকে দু হাজার গাড়ি টাইগার হিলে যায়। এই সংখ্যা ৩০০তে বেধে দিচ্ছে পুলিশ। আজকের বৈঠকে অবশ্য প্রয়োজনে এই সংখ্যা অল্প বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আজ থেকে কুপন সংগ্রহ করলেও আমাদের প্রতিবাদ জারি থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি দেব আমরা।”

তবে নিজেদের অবস্থানে এখনও অনড় জেলা পুলিশ। টাইগার হিল বাঁচাতেই তাঁদের এমন উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

পুলিশের পদক্ষেপে পরিবেশবিদরা খুশি হলেও পর্যটকদের একাংশের আশঙ্কা, মাত্র তিনশো গাড়ির অনুমতি থাকলে, প্রতিদিনের কুপন ট্যুর অপারেটররাই সংগ্রহ করে নেবেন। যাঁরা কোনও পর্যটন সংস্থার সঙ্গে না গিয়ে নিজেরা যেতে চায় তাঁদের পক্ষে কুপন সংগ্রহ কি আর আদৌ সম্ভব হবে ? বাড়তি টাকার বিনিময়ে হয়তো ছাড়া হবে বাড়তি গাড়ি।

পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে এ প্রশ্নের জবাব অবশ্য এখনও মেলেনি।

 

 

Comments are closed.