মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

অন্য জায়গায় প্রেমিকের বিয়ে ঠিক হওয়ায় অনশনে প্রেমিকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর : ফের বিয়ের দাবিতে ধর্না।  এ বার অনশনও।  সম্পর্ক ভেঙে অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলেন প্রেমিকা। দু দিন ধরে অনশন করায় আজ অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তরুণী। স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। প্রেমিকা ধর্নায় বসার পরেই গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক। গ্রামের মানুষজন সালিশি সভা বসালেও সমাধানের রাস্তা বের হয়নি। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে করনদিঘি থানার লাহুতারা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, করনদিঘি থানার বিহিনগরের বাসিন্দা ২১ বছরের রীতা সিংহের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক লাহুতারা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সুদর্শন পালের ছেলে ২৩ বছরের বিপ্লবের। রীতার অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তিনি জানতে পারেন বিপ্লবের বাড়ির লোকেরা অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করেছে৷ এই খবর পাওয়ার পরেই প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে চলে আসে রীতা। তবে তাঁর সঙ্গে বিপ্লবকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে রীতার অভিযোগ।

উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরে আর পড়াশোনা করেনি রীতা। অন্য দিকে বিপ্লবও পড়াশোনা ছেড়ে বাড়ির সামনে একটি মুদির দোকান খোলে। রীতা জানায়, বিপ্লবের সঙ্গে বারবার দেখা করতে চাইলেও তাঁর বাড়ির লোকজন দেখা করতে দেয়নি। বিপ্লবকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই ধর্না- অনশন ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই তাঁর কাছে।

অভিযোগ, রীতার বাড়ির লোকজন বিষয়টি নিয়ে করণদিঘি থানার দ্বারস্থ হলেও প্রশাসনিক কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে রীতার পাশেই দাঁড়িয়েছেন বিপ্লবের পড়শিরা। মঙ্গলবার তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সালিশি সভাও করেন। এই সভায় সবাই রীতা ও বিপ্লবের বিয়ের পক্ষেই মত দিয়েছেন। কিন্তু বিপ্লবের খোঁজ না মেলায় রীতার বাড়ির লোকজন করণদিঘি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হন।

বিপ্লবের বাবা সুদর্শন পাল জানান, তাঁর ছেলে বাড়িতে নেই। যা হচ্ছে তার সমস্ত দায়িত্বই ছেলের। বিপ্লব ও রীতার সম্পর্কের কথাও তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন সুদর্শনবাবু৷

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Comments are closed.